AdvertisementAdvertisement

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অভিজাত এলাকায় মাদক সরবরাহ: ১৬ বছরে ২৭ মামলার আসামি পিংকীর অন্ধকার সাম্রাজ্য

পাকিস্তানের করাচিতে উচ্চবিত্ত এলাকা এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসা একটি শক্তিশালী চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। গত সোমবার বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক দাখিল করা অন্তর্বর্তীকালীন অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘আনমোল’ ওরফে ‘পিঙ্কি’ নামের এক নারী গত ১৬ বছর ধরে এই অবৈধ কারবার পরিচালনা করে আসছেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, মূল অভিযুক্ত আনমোল তার প্রাক্তন স্বামীর কাছ থেকে কোকেন তৈরির কৌশল রপ্ত করেছিলেন। তাদের বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি নিজস্ব একটি মাদক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। এই চক্রটি মূলত লাহোর থেকে গণপরিবহনের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য করাচিতে নিয়ে আসত। সাবরা নামের এক সহযোগী শুরুতে এই পরিবহনের দায়িত্বে থাকলেও, ২০১৯ সালে আনমোলের ব্যাংক হিসাব জব্দ হওয়ার পর সাবরার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে আর্থিক লেনদেন চালানো হতো।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সাবরা অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর হুমায়রা নামের আরেক সহযোগীকে নিয়োগ দিয়ে মাদক চোরাচালান অব্যাহত রাখেন অভিযুক্তরা। আদালতে দাখিল করা নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে পাঞ্জাব এবং করাচির বিভিন্ন থানায় আনমোলের বিরুদ্ধে ২৭টি মাদক মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এমনকি তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যও একই ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয় যে, চক্রটি বিভিন্ন মানের মাদক ভিন্ন ভিন্ন চড়া মূল্যে বিক্রি করত। জব্দ করা ব্যাংক হিসাবগুলো পরীক্ষা করে কয়েক কোটি রুপির অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের প্রয়োজনে ফরেনসিক রিপোর্ট এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় থাকায় মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদালত থেকে সময় চেয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এদিকে, আসামীপক্ষের আইনজীবীর অনুপস্থিতির কারণে আদালত শুনানির পরবর্তী তারিখ ২০ জুন নির্ধারণ করেছেন। একই দিনে অভিযুক্তদের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের অনুমতি সংক্রান্ত আবেদনের বিষয়েও শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে প্রধান অভিযুক্ত আনমোলসহ চারজন বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।

তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ

0%
0%
0%
0%