AdvertisementAdvertisement

পশ্চিম তীরে জাতিগত নিধন ও বসতি সম্প্রসারণে ইসরায়েলি তোড়জোড় অব্যাহত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট ‘জাতিগত নিধন’ পরিচালনার গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মহলের চাপ উপেক্ষা করে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা নতুন বসতি স্থাপনে অর্থায়ন এবং ফিলিস্তিনিদের ভূখণ্ডে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের মতো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোর পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপন ও অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়ার অভিযোগে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিখসহ বেশ কয়েকজন বসতি স্থাপনকারী নেতার ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।

সংস্থাটির ভাষ্যমতে, পশ্চিম তীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী অভিযোগটি অস্বীকার করলেও জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এখন প্রতিদিন গড়ে ছয়টি হামলায় পৌঁছেছে এবং ১৯৬৭ সালের পর এমন মাত্রায় বাস্তুচ্যুতি আর দেখা যায়নি। গুতেরেস স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইসরায়েলের এই দখলদারি প্রক্রিয়ার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ইসরায়েলি গোষ্ঠী ‘পিস নাউ’-এর তথ্যানুযায়ী, দেশটির মন্ত্রিসভা ৩৮৮ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ৬৯টি বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। ২০২২ সালের শেষ দিক থেকে এ পর্যন্ত ১০৩টি বসতিকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৫১টি সম্পূর্ণ নতুন। জর্ডান ভ্যালি এবং দক্ষিণ হেবরন হিলসের মতো কৌশলগত এলাকাগুলোতে এসব বসতি স্থাপনের ফলে ওসলো চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ফিলিস্তিনিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোর মানচিত্র কার্যত অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ছে। এমনকি জেনিন শরণার্থী শিবিরে স্থায়ী সামরিক পোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে ওসলো-পরবর্তী তিন দশকের নজির ভেঙেছে ইসরায়েল।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

পশ্চিম তীরে সহিংসতা ও দখলদারিত্বের চিত্রটি এখন চরম আকার ধারণ করেছে। রামাল্লাহর উত্তর-পশ্চিমে ফিলিস্তিনিদের ভূমিতে বেআইনিভাবে তাঁবু গেড়ে বসতি স্থাপনের চেষ্টা করছেন উগ্রপন্থী বসতি স্থাপনকারীরা। দেয়ার আবু মাশ’আল গ্রামে গত ১৫ জুন ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলায় চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে গাজা উপত্যকায় দীর্ঘ আট মাসের সামরিক অভিযানে মানবিক বিপর্যয় চরমে পৌঁছেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৭৩,০০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং বর্তমানে প্রতিদিন সাধারণ ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলি বিমান হামলা ও গোলাগুলির শিকার হচ্ছেন।

গাজার মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়কারী সংস্থা ওচা (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, গাজার ৭০ শতাংশ মানুষ এখন বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের জন্য ত্রাণবাহী ট্রাকের ওপর নির্ভরশীল। অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ায় দৈনিক রান্না করা খাবারের উৎপাদন মার্চ মাসের তুলনায় অর্ধেক হয়ে গেছে। এর পাশাপাশি ১৬,৫০০ জনেরও বেশি মুমূর্ষু রোগীকে চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, যা স্বাস্থ্য পরিষেবাকে পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%