অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে চার্টার অব ইকোনমির আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর বিরোধী দলকে ঐক্যের ডাক

পাকিস্তানের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে জাতীয় সংসদে চলছে তীব্র বিতর্ক ও পর্যালোচনা। এই বাজেটকে জনবান্ধব ও স্বস্তিদায়ক হিসেবে অভিহিত করে দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেছেন, সরকারের সুচিন্তিত নীতিমালার কারণে দেশের অর্থনীতি বর্তমানে ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। রোববার জাতীয় সংসদে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি বিরোধী দলকে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি ‘চার্টার অব ইকোনমি’ বা অর্থনৈতিক সনদে স্বাক্ষর করার আহ্বান জানান।
সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী জানান, পাকিস্তানর প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের অনুমোদনে বাজেট থেকে সুপার ট্যাক্স বা বাড়তি কর প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বড় স্বস্তি। এছাড়া রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ইতিবাচক প্রবাহের কথা উল্লেখ করে তিনি বিরোধী দলের প্রতি সরকারের সাফল্যগুলো স্বীকার করার আহ্বান জানান। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিষয়টিও তার বক্তব্যে গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
গত ১২ জুন পেশ করা এই বাজেটে বেতনভোগী শ্রেণী, ব্যবসায়ী, রিয়েল এস্টেট ও রপ্তানিকারকদের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নতুন কোনো বড় কর আরোপ না করলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে অর্জিত আয়ের ওপর কর এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট কর কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সরকারের এসব পদক্ষেপ নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন বিরোধীরা।
সংসদে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতা আসাদ কায়সার সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, তাদের দল কেবল একটি গণতান্ত্রিক সনদে স্বাক্ষর করতে আগ্রহী, যা বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে। তিনি দাবি করেন, বাজেটের অধিকাংশ প্রস্তাব আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সুপারিশ অনুযায়ী তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এছাড়া কৃষি খাতে সরকারের পর্যাপ্ত সহায়তা না থাকায় পাঞ্জাবের কৃষকরা ২.২ ট্রিলিয়ন রুপির ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন বলেও তিনি সতর্ক করেন।
সংসদ অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা মাহমুদ খান আচাকজাই প্রাদেশিক উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তিনি ও অন্যান্য বিরোধী আইনপ্রণেতারা দাবি করেছেন যে, বিনিয়োগ পরিবেশ সংকটের মুখে পড়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে পাকিস্তান থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। বাজেট ঘিরে সরকারি ও বিরোধী দলের এই মতপার্থক্য এবং উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় সপ্তাহের শেষভাগে জাতীয় সংসদকে সরগরম করে রাখে।
তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ