যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি নতুন করে জটিল হয়ে উঠেছে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী কেন্দ্র করে। বিশ্ব তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এখন দুই দেশের সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, আলোচনার জন্য মার্কিন প্রতিনিধি দলকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ পাঠানো হবে।
অন্যদিকে ইরান শুরুতে হরমুজ প্রণালী সাময়িকভাবে খোলার ঘোষণা দিলেও পরে অবস্থান পরিবর্তন করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় জলপথে নিয়ন্ত্রণ কঠোর করে। এর পরপরই ইরানি বাহিনী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র অবরোধের মাধ্যমে “জলদস্যুতা” চালাচ্ছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ চলাচলে বাধা প্রত্যাহার করবে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালী কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
ইরানের আলোচক মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বলেছেন, ইরানের সম্মতি ছাড়া এই প্রণালীতে কোনো চলাচল সম্ভব নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের চাপকে তিনি “অজ্ঞ ও মূর্খতাপূর্ণ” বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে ট্রাম্প এক পোস্টে বলেন, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র “ব্ল্যাকমেইলের শিকার হবে না”। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, চুক্তি না হলে ইরানের অবকাঠামো লক্ষ্য করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থাগুলো জানায়, সাম্প্রতিক সংঘর্ষের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষই এখনো সরাসরি যুদ্ধের দিকে না গেলেও তীব্র কূটনৈতিক ও সামরিক চাপের মধ্যে রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করছেন তারা।