ইউক্রেন ও রাশিয়ার পাল্টাপাল্টি হামলায় গত শুক্রবার দিবাগত রাতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। উভয় পক্ষের স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার ড্রোন ও বিমান হামলায় দুইজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ২০ জনেরও বেশি মানুষ। একই সময়ে ইউক্রেনের পাল্টা হামলায় রাশিয়ার ভূখণ্ড ও নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে একজন নিহত এবং ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইউক্রেনের সুমি ও দনিপ্রোপ্রোভস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন। সুমি অঞ্চলের সামরিক গভর্নর ওলেহ হ্রিহোর জানান, একটি আবাসিক বাড়িতে ড্রোন আঘাত হানলে ৬৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তি প্রাণ হারান। অন্যদিকে দনিপ্রোপ্রোভস্কের সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেক্সানদ্র গাঞ্জা জানিয়েছেন, অঞ্চলটির দুটি জেলায় অন্তত ৩০ বার ড্রোন ও বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া জাপোরিঝিয়া শহরে হামলায় দুই শিশুসহ নয়জন আহত হয়েছেন এবং শহরের একটি বহুতল ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ লক্ষ্যবস্তু ও দখলকৃত অঞ্চলে হামলা জোরদার করেছে। মস্কো-নিয়ন্ত্রিত দনেৎস্ক অঞ্চলের হরলিভকা শহরে ইউক্রেনীয় হামলায় এক নারী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় মেয়র ইভান প্রিখোদকো। একই সঙ্গে রাশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ভলগোগ্রাদে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ১০ জন আহত এবং একটি শিল্প কারখানার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিশ্চিত করেছেন যে, তাদের বাহিনী ভলগোগ্রাদের 'টাইটান-বারিকাদি' নামক শিল্প স্থাপনায় সফল হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার সামরিক রসদ সরবরাহের চেইন ব্যাহত করতে ইউক্রেন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও যোগাযোগ কেন্দ্রে আঘাত হানছে। ইউক্রেনীয় বাহিনীর এমন গভীর ও সুনির্দিষ্ট হামলার ফলে রাশিয়া তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মস্কো ও ক্রিমিয়া সংযোগকারী কার্চ সেতুর সুরক্ষায় স্থানান্তর করতে বাধ্য হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।