হরমুজ প্রণালীকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণার হুমকি ট্রাম্পের উত্তেজনা তুঙ্গে

হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাঞ্চল্যকর এক ঘোষণা দিয়েছেন। নিউইয়র্কে আয়োজিত এক সমাবেশে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে পরাজিত করার পর তিনি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন। বিশ্বব্যাপী তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও সার সরবরাহের প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত এই প্রণালী ঘিরে ট্রাম্পের এমন মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাকে আরও উসকে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সামরিক সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু এখন হরমুজ প্রণালী। যুদ্ধের আগে এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হতো, তবে সংঘাতের জেরে বর্তমানে তা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। গত জুন মাসে উভয় পক্ষ সামরিক অভিযান বন্ধে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করলেও, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার শর্তটি লঙ্ঘিত হওয়ার অভিযোগে আবারও নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে।
নিজেদের নিয়ন্ত্রিত জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে তেহরান পাল্টা জবাব দিচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সেখানে শক্তিশালী নৌ-অবরোধ তৈরি করেছে এবং সম্প্রতি ইরানি বন্দরে প্রবেশের চেষ্টাকারী একটি কার্গো জাহাজে হামলাও চালিয়েছে। ট্রাম্প অবশ্য এই অবরোধকে বিশ্বের জন্য একটি ‘মহৎ সেবা’ হিসেবে অভিহিত করে একে ‘ইস্পাতের প্রাচীর’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই দাবি ও কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক বিধিবিধানের পরিপন্থী।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই যুদ্ধ বেশ প্রভাব ফেলেছে। কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ শতাংশ ভোটার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের বিপক্ষে। এছাড়া গোলাবারুদের মজুদ ফুরিয়ে আসায় ওয়াশিংটনের সামনে সামরিকভাবে আরও এগিয়ে যাওয়ার পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্প প্রশাসন রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করলেও, এই যুদ্ধ শেষ করার কোনো স্পষ্ট রূপরেখা এখনো পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, টুইট কিংবা বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়ে হরমুজ প্রণালী দখল করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ইরান কোনো ধরনের হুমকি বা শক্তি প্রদর্শনে ভীত নয়। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও ট্রাম্প প্রণালীটির ওপর ২০ শতাংশ হারে মাশুল আদায়ের যে পরিকল্পনা জানিয়েছেন, তা নিয়েও বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
