Advertisement

হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দ্বন্দ্ব অব্যাহত, রুদ্ধদ্বার আলোচনায় অচলাবস্থা

হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই রুটটি নিজেদের কবজায় রাখার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তেহরান কঠোরভাবে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। পারস্য উপসাগরীয় প্রণালী কর্তৃপক্ষের (পিজিএসএ) স্পষ্ট বার্তা, যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত বা আগ্রাসন বন্ধের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি না পাওয়া পর্যন্ত এই জলপথ অবরুদ্ধ থাকবে। বিশ্বজুড়ে উৎপাদিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইরানের দাবি, যতক্ষণ পর্যন্ত মার্কিন আগ্রাসন, ক্ষতিপূরণ এবং আরোপিত নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তাদের শর্ত পূরণ না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত প্রণালীটি উন্মুক্ত করা হবে না। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন প্রণালীর ওপর ওয়াশিংটনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, বাস্তবে ইরানের অবরোধের কারণে সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে এবং ওমান উপসাগরে পানামা-পতাকাবাহী একটি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

বিজ্ঞাপন

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানকে গোয়েন্দা ব্যর্থতা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় ওয়াশিংটনের কর্মকাণ্ডকে বড় ধরনের ভুল হিসাব বলে উল্লেখ করেন। এদিকে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অধিভুক্ত বাসিজ অর্গানাইজেশনের কমান্ডার হোজ্জাতোল ইসলাম হোসেন তায়েব জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী বর্তমানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং দেশটি সম্পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

উত্তেজনা প্রশমনে কাতারসহ মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। কাতার জানিয়েছে, ইরান ও ওমানের মধ্যকার আলোচনা বর্তমানে একটি উন্নত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে তেহরান সরাসরি ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসতে আগ্রহী নয়। তাদের অভিযোগ, ১৭ জুনের সমঝোতা চুক্তি লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা শুরু করায় দেশটির ওপর আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানও দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে উভয় পক্ষ সমঝোতায় আসতে কতটা নমনীয় হবে তার ওপর। ইরান নতুন করে ছয়টি শর্ত জুড়ে দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মার্কিন হুমকি বন্ধ করা, নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া এবং ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ৫০ বছরের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবি তুলেছে। আল জাজিরার তথ্যমতে, অভ্যন্তরীণ চাপে থাকা ওয়াশিংটন বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে শেষ পর্যন্ত ইরানের কিছু শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হতে পারে। কারণ, পাল্টা হামলার হুমকি দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের সক্ষমতা নিয়ে খোদ মার্কিন গণমাধ্যমেই উদ্বেগ রয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%