ড্রোন মোকাবিলায় শব্দতরঙ্গ ভিত্তিক নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ভারতীয় বিজ্ঞানীদের

ভারতর আকাশসীমা সুরক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত এক অভিনব প্রযুক্তি। চণ্ডীগড়ের সেন্ট্রাল সায়েন্টিফিক ইনস্ট্রুমেন্টস অর্গানাইজেশনের বিজ্ঞানীরা এমন এক শব্দভিত্তিক বা অ্যাকোস্টিক অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম তৈরি করেছেন, যা কোনো প্রকার রেডিও সিগন্যাল জ্যাম করা ছাড়াই অননুমোদিত ড্রোনকে আকাশেই অচল করে দিতে সক্ষম। সীমান্ত পেরিয়ে মাদক, অস্ত্র ও জাল নোট পাচারের মতো ক্রমবর্ধমান ড্রোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ড্রোন পরিচালনার মূল ভিত্তি হলো এর অভ্যন্তরে থাকা মেমস জাইরোস্কোপ নামক সেন্সর, যা যন্ত্রটির ভারসাম্য বজায় রাখে। উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ড্রোনের দিকে নির্দিষ্ট উচ্চ-তীব্রতার শব্দতরঙ্গ পাঠানো হয়। শব্দের কম্পাঙ্ক যখন সেন্সরের কম্পনের সঙ্গে মিলে যায়, তখন তা বিভ্রান্তিকর তথ্য তৈরি করে। ফলে ড্রোনটি তার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে, দিকভ্রান্ত হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে আকাশ থেকে নিচে পড়ে যায়।
এই উদ্ভাবনটির একটি বড় সুবিধা হলো, এটি স্বয়ংক্রিয় বা অটোনোমাস ড্রোনের বিরুদ্ধেও সমানভাবে কার্যকর। যেহেতু এই ড্রোনেরা সবসময় রিমোট কন্ট্রোল সিগন্যালের ওপর নির্ভর করে না, তাই সাধারণ জ্যামার দিয়ে এদের থামানো দুঃসাধ্য। তবে নতুন এই অ্যাকোস্টিক প্রযুক্তি ব্যালান্স সেন্সরকে লক্ষ্যবস্তু করায় যেকোনো ড্রোনই এর কবলে পড়ার ঝুঁকি থাকে। ভারতর আইআইটি কানপুরের আইহাব-এনটিআইএইচএসি-এর অর্থায়নে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পটি এখন বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রযুক্তিটির কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও এর উপযোগিতা অস্বীকার করার উপায় নেই। এটি মূলত কয়েকশ মিটারের মতো স্বল্প দূরত্বে বেশি কার্যকর এবং প্রতিকূল আবহাওয়া বা অতিরিক্ত কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে এর কার্যকারিতা কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা একে একক ব্যবস্থা হিসেবে নয়, বরং রাডার ও রেডিও-ফ্রিকোয়েন্সি জ্যামারের সমন্বয়ে গঠিত বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন।
শহরাঞ্চল বা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়, যেখানে রাডারের কার্যকারিতা সীমিত হতে পারে, সেখানে এই প্রযুক্তি বাড়তি সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করবে। গুলি বা লেজারের ব্যবহার ছাড়াই শুধুমাত্র শব্দতরঙ্গের মাধ্যমে আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এই প্রচেষ্টা ভারতর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী সংযোজন। এর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও আধুনিক হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
