Advertisement

ভারতে হৃদরোগের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রোধে প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার ওপর জোর চিকিৎসকদের

মানবদেহের অপ্রতিম চালিকাশক্তি হৃদপিণ্ড ও শরীরের বৃহত্তম ধমনী ‘আওরটা’য় বাসা বাঁধা নীরব ঘাতক ব্যাধিগুলো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা। ভারতে হৃদরোগের ক্রমবর্ধমান বিস্তার এবং এর ভয়াবহ পরিণতির কথা মাথায় রেখে রোগ নির্ণয় ও বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি মণিপাল ব্রডওয়ে আওরটা ক্লিনিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁরা জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

মণিপাল হাসপাতাল ব্রডওয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান অরিজিৎ ঘোষের মতে, ভারতে হৃদরোগের লাগাম টেনে ধরতে প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার কোনো বিকল্প নেই। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অনিয়ন্ত্রিত কোলেস্টেরল এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনধারা কীভাবে হৃদযন্ত্রের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে, তা অনুধাবনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্যমতে, প্রিভেন্টিভ কার্ডিওলজির মাধ্যমে ঝুঁকির উৎসগুলো শুরুতেই চিহ্নিত করা সম্ভব, যা সঠিক জীবনধারা অনুসরণের মাধ্যমে বড় ধরনের বিপদ এড়াতে সহায়তা করবে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভারতে অসংক্রামক ব্যাধিতে মৃত্যুর প্রায় ২৭ শতাংশের কারণ হৃদরোগ। এর মধ্যে ৪০ থেকে ৬৯ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর মৃত্যুর ৪৫ শতাংশই ঘটছে হৃদযন্ত্রের জটিলতায়। উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন হৃদরোগের অন্যতম প্রধান অনুঘটক হিসেবে চিহ্নিত। ভারতে প্রায় ২২ কোটি মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগলেও উদ্বেগের বিষয় হলো, এদের মধ্যে মাত্র ১২ শতাংশ মানুষের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

পরিসংখ্যানগুলো স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, রোগ গুরুতর হওয়ার পর চিকিৎসা গ্রহণের চেয়ে প্রতিরোধ এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণই এখন সময়ের দাবি। মণিপাল হাসপাতাল ব্রডওয়ের কার্ডিওলজি কনসালট্যান্ট অনিন্দ্য সরকার এ প্রসঙ্গে বলেন, হার্ট ফেইলিওরের মতো জটিলতায় এককালীন চিকিৎসা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন ও সামগ্রিক সেবাপ্রদান ব্যবস্থা।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%