AdvertisementAdvertisement

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর

একসময়কার তীব্র রাজনৈতিক বৈরিতা এবং বিধানসভায় প্রকাশ্যে কঠোর সতর্কবার্তার তিক্ত স্মৃতি পেছনে ফেলে এবার পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক প্রধানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হলেন নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। বুধবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল দানা বাঁধলেও, বিধায়ক এটিকে নিছক উন্নয়নমূলক আলোচনার ক্ষেত্র হিসেবেই ব্যাখ্যা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ করে তিনি দাবি করেছেন, মুর্শিদাবাদ জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন ও স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই তিনি প্রশাসনিক প্রধানের সঙ্গে এই আলোচনায় বসেছিলেন।

বৈঠক প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের সঙ্গে জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। নওদার বিধায়ক দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তাঁর প্রস্তাবগুলো শুনেছেন এবং উন্নয়নের প্রশ্নে আশাব্যঞ্জক মনোভাব প্রদর্শন করেছেন। মূলত জেলার কৃষিখাত ও যোগাযোগ ব্যবস্থার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি এই বৈঠকে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

নওদা বিধানসভা এলাকার কৃষকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে তিনি একটি অত্যাধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হিমঘর নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। বিধায়কের মতে, যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে এলাকার কৃষকেরা প্রতি বছর ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। আধুনিক হিমঘর নির্মিত হলে স্থানীয় কৃষিপণ্যের মান বজায় থাকবে এবং চাষিরা উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব হিসেবে রেজিনগর বিধানসভা এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যার সমাধানে ভাগীরথী নদীর উপর একটি নতুন সেতু নির্মাণের অনুরোধ জানিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর ভাষ্যমতে, এই সেতু নির্মিত হলে দুই প্রান্তের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজতর হওয়ার পাশাপাশি গোটা জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চারিত হবে। প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি প্রশাসনিক প্রধানের ইতিবাচক আশ্বাস পেয়েছেন বলেও দাবি করেছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগেও মুখ্যমন্ত্রী এবং হুমায়ুন কবীরের মধ্যে প্রকাশ্য বাগ্‌যুদ্ধ ও চরম রাজনৈতিক উত্তাপের সৃষ্টি হয়েছিল। বিধানসভার অন্দরে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘শেষবার সতর্ক করছি, শুধরে যান; সবক শেখানোর সময় এসে গিয়েছে।’ এছাড়া গত জুন মাসে একটি রাজনৈতিক সভায় হুমায়ুন কবীরের বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে মামলাও দায়ের হয়েছিল। এমন টানাপোড়েনের আবহে এই আকস্মিক সৌজন্য সাক্ষাৎ রাজনৈতিক দূরত্ব কমানোর কোনো ইঙ্গিত কি না, তা নিয়ে জেলাজুড়ে এখন নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%