AdvertisementAdvertisement

মণিপুর সীমান্তে ভূখণ্ড বিনিময়ের জল্পনা, মুখ খুলল বিদেশমন্ত্রক

ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সীমানা বিরোধ নিরসনে ভূখণ্ড বিনিময়ের যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তা নিয়ে অবশেষে মুখ খুলল ভারতের বিদেশমন্ত্রক। নয়া দিল্লিতে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, সীমান্তের বেশ কিছু এলাকা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সুরাহা হয়নি এবং সেসব জায়গা নিয়ে উভয় দেশের মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে। তবে ভূখণ্ড বিনিময়ের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাবের বিষয়ে দিল্লি থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত বার্তা দেওয়া হয়নি।

আমেরিকার বিখ্যাত ম্যাগাজিন ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ভারত সরকার মণিপুর সীমান্তে ৬৫ ও ৬৮ নম্বর সীমানা স্তম্ভের মধ্যবর্তী ২.৮ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় ১.৪ বর্গমাইল ভূখণ্ড বিনিময়ের বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। এই এলাকাটি মণিপুরের চান্দেল জেলায় অবস্থিত, যা মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের কাবাউ উপত্যকার সীমান্তবর্তী। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৬ মে তারিখের কিছু সরকারি নথি অনুযায়ী চলতি বছরের আগস্ট মাসের মধ্যে সীমানা নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রায় ১,৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে, যা অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মণিপুর ও মিজোরামের দুর্গম পাহাড়ি ও বনাঞ্চল ভেদ করে অগ্রসর হয়েছে। বিশেষ করে মণিপুরের কাবাউ উপত্যকা এবং অরুণাচলের লোহিত এলাকার প্রায় ১৭১ কিলোমিটার সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো সুরাহা হয়নি। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই সীমান্ত এলাকাগুলোতে অতীতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর আনাগোনা ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধের মতো নিরাপত্তা ঝুঁকি পরিলক্ষিত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকার যদি শেষ পর্যন্ত এই ভূখণ্ড বিনিময়ের পথে হাঁটে, তবে সীমান্তের অনির্ধারিত অংশ চিহ্নিত করে বেড়া নির্মাণ করা দিল্লির জন্য সহজতর হবে, যা সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বড় ভূমিকা রাখবে। তবে এই সম্ভাব্য পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ‘ইম্ফল টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘কোঅর্ডিনেটিং কমিটি অন মণিপুর ইন্টিগ্রিটি’ নামের একটি সংগঠন ইতিমধ্যে সরকারকে সতর্ক করে জানিয়েছে যে, রাজ্যের এক ইঞ্চি ভূখণ্ডও মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করা হলে তারা কঠোর গণ-আন্দোলন গড়ে তুলবে। সাম্প্রতিক সময়ে জাতিগত দাঙ্গায় উত্তপ্ত মণিপুরের স্পর্শকাতর পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এই সতর্কবার্তা নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%