AdvertisementAdvertisement

কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে বৈঠকের জেরে শশী পাঁজার দলবদল নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপর্যয়ের পর থেকে রাজ্যের রাজনীতিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তাতে নতুন করে ইন্ধন জুগিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী শশী পাঁজা। গত শনিবার এনসিপিআই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের কালীঘাটস্থিত কার্যালয়ে শশী পাঁজার আকস্মিক উপস্থিতি রাজ্য রাজনীতির অন্দরে দলবদলের তীব্র জল্পনা উসকে দিয়েছে। ভোটের ফলাফলের পর দীর্ঘ সময় লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা এই নেত্রীর হঠাৎ সক্রিয় হয়ে ওঠায় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন দানা বেঁধেছে।

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রবিবার কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পুত্র বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারের একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করে তুলেছে। তিনি দাবি করেছেন, শনিবারের ওই বৈঠকে শশী পাঁজার পাশাপাশি তৃণমূলের আরও একজন প্রভাবশালী প্রাক্তন মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। তবে রহস্য বজায় রেখে বৈদ্যনাথ সেই নেতার নাম প্রকাশ্যে আনেননি এবং জানিয়েছেন, উপযুক্ত সময় এলেই বিষয়টি সংবাদমাধ্যমের সামনে পরিষ্কার করা হবে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা কাকলি ঘোষ দস্তিদার, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কৃষ্ণা চক্রবর্তী এবং শশী পাঁজা—এই চার নেত্রীকে বিভিন্ন সময়ে একত্রে দেখা যেত। পরবর্তীতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার এনসিপিআই শিবিরে যোগ দিয়ে লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অন্যদিকে চন্দ্রিমা ও কৃষ্ণা চক্রবর্তী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবিরে ভিড়েছেন, কিন্তু শশী পাঁজা এতদিন কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতেই অংশ নেননি।

শশী পাঁজার অনুপস্থিতি নিয়ে এমনকি তিনি অন্ধ্রপ্রদেশে পাড়ি জমিয়েছেন বলেও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। সেই আবহে তাঁর এই বৈঠক স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কৌতূহল বাড়িয়ে দিয়েছে। বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে বিভ্রান্তিও কম নেই, কারণ তিনি রবিবার সকালে একটি পোস্ট করার পর তা মুছে ফেলে সন্ধ্যায় ফের নতুন করে বৈঠকের কথা উল্লেখ করেছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলে চলমান ভাঙন ও নেতাদের দলবদল নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে, তখন এই নতুন রহস্যময়ী বৈঠকের খবর নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার বিষয়, বৈদ্যনাথের ইঙ্গিত করা সেই অজ্ঞাতপরিচয় দ্বিতীয় প্রাক্তন মন্ত্রী আদতে কে এবং রাজ্য রাজনীতিতে সামনে আর কোনো বড় ধরনের পটপরিবর্তন ঘটে কি না। সংশ্লিষ্ট কোনো নেতাই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ না খোলায় পুরো বিষয়টি নিয়ে রহস্যের কুয়াশা বহাল রয়েছে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%