AdvertisementAdvertisement

নিট পিজি পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় সংস্কার কেন্দ্রের

চলতি বছরে নিট ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে পরীক্ষার্থীদের আস্থা অর্জনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ভারত সরকার। স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগামী ৩০ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য ‘নিট-পিজি ২০২৬’ পরীক্ষার নিয়মনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবার পরীক্ষাটি একক শিফটে সম্পন্ন হবে, যা পরীক্ষা পরিচালনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে নতুন নিয়মে আবেদনের সময় তিনটি পছন্দের শহর উল্লেখ করতে হবে, যার মধ্যে নিজস্ব রাজ্যকে প্রথম পছন্দ হিসেবে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে দূরবর্তী স্থানে গিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পাবেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া পরীক্ষার তিন সপ্তাহ পূর্বেই কেন্দ্রের নাম জানিয়ে দেওয়া হবে, যাতে যাতায়াত ও আবাসনের যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়। ন্যাশনাল বোর্ড অফ এক্সামিনেশনস ইন মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এনবিইএমএস) এবার প্রশ্নের সংখ্যা ২০০ থেকে কমিয়ে ১৮০ নির্ধারণ করেছে, তবে সময়সীমা ৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিট অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

পরীক্ষা কেন্দ্রে জালিয়াতি রোধে ভারতর কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে আধার ভিত্তিক বায়োমেট্রিক যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে; আঙুলের ছাপ না মিললে চোখের আইরিস স্ক্যান করা হবে। এছাড়া সিসিটিভি নজরদারি, সিগন্যাল জ্যামার এবং প্রশ্নপত্রের ডিজিটাল এনক্রিপশন ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ জানানোর জন্য চালু করা হয়েছে একটি বিশেষ ই-মেল আইডি। এ বছর মোট ২,৭৩,১৮৩ জন পরীক্ষার্থী নাম নথিভুক্ত করেছেন, যা গত বছরের তুলনায় ১২.৫ শতাংশ বেশি। দেশের ৩৪০টি শহরের ১,৩০০টিরও বেশি কেন্দ্রে ৬০ হাজারেরও বেশি কর্মীর তত্ত্বাবধানে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিট ইউজি সংক্রান্ত বিতর্কের পর ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) তাদের সদর দপ্তর ও আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রায় ৭.৫ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করেছে। নিরাপত্তার মানোন্নয়নে সংস্থা নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে ‘কোয়ালিটি অ্যান্ড কস্ট বেসড সিলেকশন’ (কিউসিবিএস) পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এতে কারিগরি যোগ্যতাকে ৭০ শতাংশ এবং খরচের হিসেবে ৩০ শতাংশ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিপিএস-ভিত্তিক গার্ড পেট্রোলিং, বায়োমেট্রিক হাজিরা এবং কঠোর পরিচয়পত্র যাচাই প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। দিল্লির মিন্টো রোডে অবস্থিত এনটিএ-র সদর দপ্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে ২৪ ঘণ্টা সশস্ত্র প্রহরা ও সিসিটিভি নজরদারি নিশ্চিত করা হবে। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য আবেদনকারী সংস্থার ন্যূনতম ৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা এবং কেন্দ্রীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান বা বিমানবন্দরের মতো সংবেদনশীল স্থানে কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রশ্নফাঁস বিরোধী আইন পাশের পর মূলত পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা ফিরিয়ে আনাই ভারত সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%