AdvertisementAdvertisement

দলের অন্দরে তোলাবাজির সংস্কৃতি নিয়ে সরব দিলীপ ঘোষ ও শমীক ভট্টাচার্য

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের ডাক দিয়ে আসছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। তৃণমূল কংগ্রেস আমলের দুর্নীতির ফাইল খোলার পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের সংযত হওয়ার বার্তাও নিয়মিত দিয়ে আসছেন নেতারা। এবার দলের অভ্যন্তরে মাথাচাড়া দেওয়া তোলাবাজি বা চাঁদাবাজির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর এই অকপট স্বীকারোক্তি রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

দিলীপ ঘোষ বলেন, দলের বহু নেতা এখন এই অবৈধ উপার্জনের মধুতে আসক্ত হয়ে পড়ছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বিষয়টি নিয়ে দলের উচ্চপর্যায়ে নজরদারি চলছে এবং পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অভিযোগ আসামাত্রই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। তিনি আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যারা একসময় সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিয়েছিল, দলের একাংশ তাদের ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। ক্ষমতার বদল হলেও মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা ভুলে গেলে চলবে না।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারি এ বিষয়ে সরব হয়েছিলেন। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন। গত শনিবার রাজারহাটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, সরকার গঠনের তিন মাস পূর্ণ হতে চললেও তোলাবাজির সংস্কৃতি পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। শমীক ভট্টাচার্যের মতে, দীর্ঘদিনের গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট এবং অনৈতিকভাবে অর্থ উপার্জনের প্রবণতা ক্ষমতার পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই রাতারাতি মুছে ফেলা কঠিন।

রাজ্য সভাপতি আরও যোগ করেন, দলের অনেকের সুপ্ত বাসনা এখন প্রকাশ্যে বেরিয়ে আসছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগের। রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে সমাজ ও বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি পদক্ষেপে রাজনীতির অনুপ্রবেশ না থামলে পরিবর্তন অধরাই থেকে যাবে। পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের কণ্ঠেও সেই একই সুর ধ্বনিত হলো। দল ও সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় নেতারা এখন অভ্যন্তরীণ এই বিচ্যুতি রোধে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%