নিট বিক্ষোভের নামে রাজধানীতে নজিরবিহীন সহিংসতা ও সরকারি সম্পদ ধ্বংসের ঘটনায় অভিযুক্ত সিজেপি

নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিতে গত ২০ জুলাই থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত চলা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র বিক্ষোভ ঘিরে তৈরি হওয়া সহিংস পরিস্থিতির বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দিল্লি পুলিশ। হিন্দুস্তান টাইমসের হাতে আসা পুলিশের অভ্যন্তরীণ নথিতে দেখা গেছে, এই আন্দোলনের অন্তরালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভিড়কে ঢাল করে রাজনৈতিক মদদপুষ্ট কিছু গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে অরাজকতা সৃষ্টি করেছিল। টানা ছয় দিন ধরে সংসদ ভবন সংলগ্ন অতি সংবেদনশীল এলাকায় পাথর নিক্ষেপ, ব্যারিকেড ভাঙা এবং পুলিশের ওপর লাগাতার উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের জেরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চরম সংযম বজায় রেখে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে।
নিরাপত্তা আধিকারিকদের তথ্যানুযায়ী, বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু যন্তর মন্তর হলেও এর প্রভাব প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। গোল ডাকখানা, টলস্টয়-জনপথ ক্রসিং, রেল ভবনের নিকটস্থ রফি মার্গ ব্যারিকেড, কনট প্লেসের আউটার সার্কেল এবং রাইসিনা রোডসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। সংসদ থেকে মাত্র ০.৮ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত সহিংসতার আঁচ পৌঁছেছিল, যা পুলিশের নিরাপত্তা বেষ্টনীকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়। বারবার সতর্ক করার পরও আন্দোলনকারীরা শান্ত না হওয়ায় বাধ্য হয়েই পুলিশকে টিয়ার গ্যাস প্রয়োগ ও লাঠিচার্জ করতে হয়।
এই সংঘাতের ফলে সরকারি সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে নথিতে উঠে এসেছে। ১১০টি ব্যারিকেড এবং ১৭১টি দড়ি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত বা উধাও হয়ে গেছে। পাশাপাশি, পুলিশের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম যেমন—১০টি মেটাল ডিটেক্টর, ১৫টি লাউডহেইলার, একটি এক্স-রে ব্যাগেজ স্ক্যানার, ৩৫৫টি হেলমেট, ২৮৫টি বডি প্রোটেক্টর এবং ৫৪টি ঢাল নষ্ট বা খোয়া গেছে। সিজেপি কর্মীদের তাণ্ডবে ২৯টি সরকারি যানবাহন, যার মধ্যে বাস ও জলবাহী ট্যাঙ্কারও রয়েছে, মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংঘর্ষের জেরে মোট ২৪৪ জন পুলিশ সদস্য এবং ২০৯ জন সাধারণ নাগরিক আহত হয়েছেন, যাদের আঘাতের বিষয়টি মেডিকো-লিগ্যাল কেস হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে চিহ্নিত বিক্ষোভকারীদের মধ্যে এমন বহু ব্যক্তি রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে অতীতে খুন, ডাকাতি, যৌন নির্যাতন ও মাদক কারবারের মতো গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে। আন্দোলনের নামে এসব অপরাধীদের উপস্থিতি জননিরাপত্তার প্রতি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে পুলিশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তৎকালীন ভারতর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বিক্ষোভকারীদের দাবি মেনে নেওয়ার পর ২৫ জুলাই থেকে এই আন্দোলনের অবসান ঘটে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
