জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র জালিয়াতির অভিযোগ রাজ্যজুড়ে পুলিশের তল্লাশি অভিযান

জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র ইস্যু প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। মূলত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর চলাকালীন ভূয়া নথির মাধ্যমে শংসাপত্র তৈরি এবং তা ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। রাজ্যের বিভিন্ন পৌরসভা ও পঞ্চায়েত কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে তদন্তকারী দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জব্দ করছে।
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বীরভূমের সিউড়ি, রামপুরহাট ও দুবরাজপুরের একাধিক দপ্তরে তল্লাশি চালানো হয়েছে। একইসঙ্গে কোচবিহারের বিভিন্ন পঞ্চায়েত ও পৌরসভা এবং দুর্গাপুরসহ রাজ্যের আরও বেশ কিছু এলাকায় তদন্তকারীরা পৌঁছে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের রেজিস্টার ও সংশ্লিষ্ট আবেদনপত্র খতিয়ে দেখছেন। ভবিষ্যতে বিশদ পর্যালোচনার জন্য এই নথিগুলো থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এই জালিয়াতির বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে যখন ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে ভূয়া জন্ম শংসাপত্র ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। ভারতের বিরোধী দল বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, অবৈধভাবে ইস্যু করা শংসাপত্রের মাধ্যমে অনেক মানুষের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই রাজনৈতিক অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রশাসনিক স্তরে তদন্তের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অভিযানের সময় তদন্তকারীরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করছেন। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আবেদন যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। নিয়ম বহির্ভূত কোনো কাজ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের আরও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন।
এদিকে, এই ধরনের জালিয়াতি রোধে ভারত সরকার জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। সম্প্রতি ‘রেজিস্ট্রেশন অফ বার্থ অ্যান্ড ডেথ অ্যামেন্ডমেন্ট রুল, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে আবেদন যাচাই ও শংসাপত্র ইস্যুর ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর এ সংক্রান্ত গেজেট বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো দুর্নীতি বা বেআইনি কাজের সঙ্গে কারা জড়িত তা চিহ্নিত করা। অনিয়ম বা জালিয়াতির প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে রাজ্যজুড়ে এই অভিযান আরও বিস্তৃত হতে পারে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস