২১ জুলাইয়ের সভামঞ্চে ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগে উত্তপ্ত রাজনীতি রাতভর সভাস্থলে মমতা ও অভিষেক

২১ জুলাইয়ের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে তীব্র উত্তেজনা ও রাজনৈতিক সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী মেয়ো রোডে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের ‘শহিদ তর্পণ’ এবং বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে কালীঘাট তৃণমূলের সভার আয়োজন করা হয়েছে। তবে সভা শুরুর পূর্বমুহূর্তে কালীঘাট তৃণমূলের মঞ্চে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
সোমবার গভীর রাতে সভাস্থলে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের তাণ্ডবের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান ভারতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করা হয়েছে যে, রাতের অন্ধকারে বিজেপির কর্মীরা বাইক নিয়ে এসে সুপরিকল্পিতভাবে মঞ্চ ভাঙচুর করেছে। দলটির ভাষ্যমতে, এটি নিছক মঞ্চ ভাঙচুর নয়, বরং সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর এক নগ্ন আক্রমণ।
সভাস্থলে দাঁড়িয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তাঁদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ৬০ থেকে ৬৫ জন বাইক আরোহী এই তাণ্ডব চালিয়েছে এবং তাদের নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তি আদালতের নির্দেশে বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। পাশাপাশি কর্মীদের সভাস্থলে পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও তাঁর অভিযোগ।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বিজেপির পক্ষ থেকে ভোর হওয়ার আগেই মঞ্চ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। সেই অশুভ পরিকল্পনা রুখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ দলের শীর্ষ নেতারা রাতভর সভাস্থলে অবস্থান করেন।
তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, আদালতের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও বারবার বাধার সৃষ্টি করা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং মহুয়া মৈত্রসহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সজাগ দৃষ্টি রাখেন। ভোরের আলো ফুটতেই সভার মূল প্রস্তুতি জোরকদমে শুরু হয়েছে এবং কর্মী-সমর্থকদের সমাগম বাড়তে শুরু করেছে। এখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজর ২১ জুলাইয়ের এই কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় কি না, তার ওপর।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
