AdvertisementAdvertisement

জানা গেলো কত বাড়ছে বিদ্যুতের দাম

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে পাইকারি ও খুচরা-দুই পর্যায়েই ইউনিটপ্রতি সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত এলএনজি, কয়লা ও তেলের বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে এসব জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি, অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরো সক্ষমতায় উৎপাদন না করলেও চুক্তি অনুযায়ী ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ দিতে হচ্ছে, যা ব্যয় আরও বাড়াচ্ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এই প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর কাছে পাঠানো হয়েছে। যদিও প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিতরণ কোম্পানিগুলোই সাধারণত এ ধরনের প্রস্তাব দেয়, এবার তারা বিদ্যুৎ বিভাগের সুপারিশ অনুসরণ করে আলাদা প্রস্তাব তৈরির কাজ শুরু করেছে। চলতি সপ্তাহেই এসব প্রস্তাব বিইআরসিতে জমা পড়তে পারে। এরপর কমিশন গণশুনানির মাধ্যমে বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। সবকিছু ঠিক থাকলে জুনের শুরুতেই নতুন দর কার্যকর হতে পারে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মতে, জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্যের বড় পার্থক্য এবং বাড়তি ভর্তুকির চাপ মোকাবিলায় এই পদক্ষেপ প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটির পরামর্শের ভিত্তিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিশ্লেষকদের ধারণা, মূল্যবৃদ্ধি ভর্তুকির চাপ কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এর প্রভাব শিল্পখাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়াতে পারে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচেও নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, খুচরা পর্যায়ে ব্যবহারভিত্তিক বিভিন্ন স্তরে ভিন্ন হারে দাম সমন্বয় করা হবে। তবে স্বল্প ব্যবহারকারী বা লাইফলাইন গ্রাহক (৭০ ইউনিট পর্যন্ত) আপাতত এই বাড়তি চাপের বাইরে থাকতে পারেন।

এর আগে, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের খুচরা দাম গড়ে ৮.৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল।

বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় খরচ গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায়কৃত দামের তুলনায় প্রায় ৫ টাকা ৫০ পয়সা বেশি। এই ঘাটতির কারণে ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পিডিবির সম্ভাব্য ঘাটতি প্রায় ৫৬ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে অতিরিক্ত প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির প্রয়োজন হতে পারে। ইতোমধ্যে সরকার এ খাতে ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।

সম্পর্কিত- দাম বিদ্যুত
0%
0%
0%
0%