তিন শর্ত পূরণ সাপেক্ষে অনশন ভাঙার ঘোষণা সোনম ওয়াংচুকের

২০ দিনেরও বেশি সময় ধরে আমরণ অনশনে থাকা বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী ও সমাজসংস্কারক সোনম ওয়াংচুক অবশেষে তিনটি শর্ত সাপেক্ষে অনশন ভাঙার ঘোষণা দিয়েছেন। দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একটি হাতে লেখা চিঠির মাধ্যমে তিনি তাঁর এই দাবিসমূহ তুলে ধরেন। বর্তমানে তিনি নিজেকে হাসপাতালে কার্যত বন্দি দাবি করে অনতিবিলম্বে সরকার ও রাজনৈতিক মহলের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি প্রত্যাশা করছেন।
শিক্ষাব্যবস্থার সাম্প্রতিক ভয়াবহ বিপর্যয়, বিশেষ করে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াংচুক গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, লক্ষ লক্ষ মেধাবী শিক্ষার্থীর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দায়ভার কেবল তদন্ত কমিটির ওপর চাপিয়ে দিলে চলবে না, বরং সরকারকে এর পূর্ণ দায়ভার গ্রহণ করে প্রকাশ্য জবাবদিহিতার আওতায় আসতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থার ভঙ্গুর দশা থেকে উত্তরণে তিনি সরকারের পক্ষ থেকে স্বচ্ছ ও দৃঢ় পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
দ্বিতীয় দাবিতে তিনি দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সংসদে এই সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয় বরং এটি জাতীয় মর্যাদার প্রশ্ন বলে তিনি মনে করেন। শিক্ষাব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে সংসদে যথাযথ বিতর্কের মাধ্যমে কার্যকর আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি চেয়েছেন তিনি।
তৃতীয় শর্ত হিসেবে ওয়াংচুক জানিয়েছেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি যদি আজ সংসদ অভিযানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারেন, তবে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের সফদরজং হাসপাতালে এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে হবে। তাঁদের কাছ থেকে সরাসরি দাবিসমূহ পূরণের মৌখিক ও লিখিত আশ্বাস পেলেই তিনি তাঁর দীর্ঘ অনশনের ইতি টানবেন। এর আগে থেকেই তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন।
উল্লেখ্য যে, গত ২৮ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির আয়োজনে তিনি তাঁর আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন। অনশনের ২১তম দিনে দিল্লি উচ্চ আদালতের নির্দেশে পুলিশ তাঁকে জোরপূর্বক সফদরজং হাসপাতালে স্থানান্তর করে। বর্তমানে চিকিৎসা গ্রহণ করলেও তিনি তাঁর সমর্থকদের ছাত্রস্বার্থে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এখন ভারত সরকারের শীর্ষ মহল ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আসা প্রতিক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে এই দীর্ঘ অনশনের চূড়ান্ত পরিণতির চিত্র।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
