ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের সাব-সিস্টেম তৈরির বরাত পেল পিটিসি ইন্ডাস্ট্রিজ

ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন শিল্পে আত্মনির্ভরতা অর্জনের পথে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করল পিটিসি ইন্ডাস্ট্রিজ। দেশের অন্যতম কৌশলগত সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ব্রহ্মোসের জন্য অত্যন্ত জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ সাব-সিস্টেম তৈরি এবং তা সংযুক্তিকরণের বিশেষ কার্যাদেশ বা বরাত পেয়েছে এই সংস্থাটি। শুক্রবার শেয়ার বাজারে জমা দেওয়া এক নথিতে এই অগ্রগতির কথা জানিয়েছে পিটিসি ইন্ডাস্ট্রিজ।

বিজ্ঞাপন

সংস্থার ভাষ্যমতে, এটি তাদের ব্যবসায়িক ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মোড়। এতদিন মূলত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ধাতব উপাদান ও প্রিসিশন কাস্টিং সরবরাহে নিয়োজিত থাকলেও, এবারই প্রথম উচ্চমূল্যের ‘সিস্টেমস অ্যান্ড সাব-সিস্টেমস ইন্টিগ্রেশন’-এর মতো জটিল ও উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা প্রকল্পের অংশীদার হলো তারা। ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেসের কাছ থেকে পাওয়া এই বরাতের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ বছর। নিরাপত্তা ও কৌশলগত গোপনীয়তার স্বার্থে এই প্রকল্পের আর্থিক মূল্য প্রকাশ করা হয়নি।

ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের কাঠামো বা স্ট্রাকচারাল অ্যাসেম্বলি তৈরির ক্ষেত্রে প্রচণ্ড তাপ, কম্পন এবং যান্ত্রিক চাপের মতো প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলা করতে হয়। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে নিখুঁত কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তি, বিশেষ জোড়াই পদ্ধতি এবং কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রয়োজন। পিটিসি ইন্ডাস্ট্রিজ তাদের অত্যাধুনিক উৎপাদন সক্ষমতার মাধ্যমেই এই জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়েছে বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পিটিসি ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর সচিন আগরওয়াল এই অর্জনকে প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের এক বড় স্বীকৃতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, এই বরাত ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেসের পক্ষ থেকে তাদের ওপর অর্পিত আস্থার প্রতীক। এটি যেমন সংস্থার উন্নত উৎপাদন সক্ষমতাকে প্রমাণ করে, তেমনি ভারতের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা উৎপাদনে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করল।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে উত্তরপ্রদেশ ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডরের লখনউ কেন্দ্রে পিটিসি ইন্ডাস্ট্রিজ তাদের উৎপাদন পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করছে। সেখানে মহাকাশ শিল্পে ব্যবহৃত টাইটানিয়াম ও সুপারঅ্যালয় উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, পিটিসি ইন্ডাস্ট্রিজের মতো দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ ভারতের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগকে আরও গতিশীল করবে এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%