জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র পেতে কড়া নিয়ম জারি রাজ্য সরকারের জালিয়াতি রুখতে সংশোধিত বিধি কার্যকর

পশ্চিমবঙ্গে জন্ম ও মৃত্যু সংক্রান্ত নথিপত্রে জালিয়াতি ও ভুয়া তথ্য প্রদানের প্রবণতা রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে রাজ্য সরকার। নথিবদ্ধকরণ প্রক্রিয়াকে অধিকতর স্বচ্ছ ও নির্ভুল করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য দপ্তর ‘রেজিস্ট্রেশন অফ বার্থ অ্যান্ড ডেথ (অ্যামেন্ডমেন্ট) রুলস, ২০২৬’ জারি করেছে। মন্ত্রিসভার সম্মতিক্রমে প্রকাশিত এই গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদনকারীদের জন্য একাধিক নতুন ও বাধ্যতামূলক শর্ত আরোপ করা হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, জন্ম বা মৃত্যুর শংসাপত্রের আবেদনপত্রে নামের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহারের সুযোগ আর থাকছে না। আবেদনকারীকে তার পূর্ণাঙ্গ নাম উল্লেখ করতে হবে এবং ঠিকানার ক্ষেত্রেও রাজ্য, জেলা, শহর বা গ্রাম, ওয়ার্ড নম্বর, বাড়ির নম্বর ও পিন কোডসহ বিস্তারিত তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একইভাবে, মৃত্যুর শংসাপত্রের ক্ষেত্রে এখন থেকে মৃত ব্যক্তির অসুস্থতার ইতিহাস ও চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করতে হবে। বিশেষত, হাসপাতালের বাইরে হওয়া মৃত্যুর ক্ষেত্রে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনো অস্পষ্টতা না থাকে।
দেরিতে নথিভুক্তিকরণের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়মে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। কোনো ঘটনা ঘটার ৩০ দিনের মধ্যে তা নথিবদ্ধ না হলে আবেদনকারীকে লিখিতভাবে বিলম্বের কারণ দর্শাতে হবে। ৩০ দিনের পর কিন্তু এক বছরের মধ্যে আবেদনের ক্ষেত্রে জেলা রেজিস্ট্রারের লিখিত অনুমতিসহ ৫০ টাকা বিলম্ব ফি দিয়ে ১৪ নম্বর ফর্ম পূরণ করতে হবে। তবে ঘটনার এক বছর অতিক্রান্ত হলে এবং দুই বছরের মধ্যে আবেদনের ক্ষেত্রে এই ফি বৃদ্ধি পেয়ে ১০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে।
যদি কোনো ঘটনার দুই বছরের বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়ে যায়, তবে নথিভুক্তির আবেদন করতে হলে বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সেক্ষেত্রেও আবেদনকারীকে ১০০ টাকা বিলম্ব ফি প্রদান করতে হবে। স্বাস্থ্য দপ্তর স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো তথ্যে সন্দেহ প্রকাশ পেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে তদন্ত করতে পারবেন এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত প্রমাণাদি তলব করতে পারবেন। তথ্য বিভ্রান্তিকর বা অসত্য প্রমাণিত হলে আবেদন সরাসরি বাতিল করার পূর্ণ ক্ষমতা কর্তৃপক্ষের হাতে থাকবে।
প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র নাগরিকত্ব, উত্তরাধিকার ও সরকারি বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে অপরিহার্য নথি হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই এই সংশোধিত নিয়মাবলী বাস্তবায়নের মাধ্যমে জালিয়াতি রোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলতে সরকারের এই উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতিনিধিরা।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস