সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে সাতটি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশের প্রস্তুতি সরকারের

জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া ভারতর সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনকে সামনে রেখে জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এবারের অধিবেশনে পাঁচটি নতুন বিল উত্থাপন করা হবে এবং আগে থেকে ঝুলে থাকা আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে সর্বদলীয় বৈঠকে বিরোধী দলগুলোকে এসব আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করবে সরকার।

বিজ্ঞাপন

রাজনৈতিক মহলে বহুল আলোচিত সংবিধান সংশোধনী বিল, বিশেষত লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিল আপাতত এই অধিবেশনের কার্যসূচিতে রাখা হয়নি। সরকার সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন নিশ্চিত হওয়ার পরেই কেবল এসব স্পর্শকাতর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এবারের অধিবেশনের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে যাচ্ছে ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন সংশোধনী বিল, ২০২৬। গত ২৫ মার্চ লোকসভায় উত্থাপিত এই বিলটি পাসের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে বিদেশ থেকে আসা অনুদানের উৎস ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চায় ভারতর সরকার। এছাড়াও বিকশিত ভারত এডুকেশন এস্টাবলিশমেন্ট বিল, ২০২৫ নিয়ে যৌথ সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদন জমার পর পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।

ভারতের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে সরকার ইনকাম ট্যাক্স সংশোধনী বিল, ২০২৬ পেশ করতে চলেছে। বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামার মধ্যে দেশের সার্বভৌম ঋণ বাজার শক্তিশালী করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন মামলার জট কমাতে শীর্ষ আদালতের বিচারপতির সংখ্যা ৩৩ থেকে বাড়িয়ে ৩৭ জন করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রশাসনিক ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আরও তিনটি নতুন বিলের প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে জন্ম ও মৃত্যু নথিভুক্তি সংশোধনী বিল, ২০২৬-এর মাধ্যমে নিবন্ধীকরণ প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর করা হচ্ছে। পাশাপাশি জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ সংশোধনী বিলের মাধ্যমে জাতীয় প্রতীক ও পতাকার অবমাননা রোধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হচ্ছে। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প উন্নয়ন সংশোধনী বিলের মাধ্যমে ব্যবসার পরিবেশ সহজীকরণ ও প্রশাসনিক ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আইন প্রণয়নের পাশাপাশি ২০২২-২৩ অর্থবর্ষের সম্পূরক অনুদানের দাবি সংসদে পেশ করবে ভারতর সরকার, যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও ভোটাভুটি হবে। যদিও ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ বা জনপ্রতিনিধিদের সংক্রান্ত জটিল কোনো বিলের বিষয়ে সরকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি, তবুও এবারের বর্ষাকালীন অধিবেশন জাতীয় রাজনীতির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%