AdvertisementAdvertisement

ওড়িশার চাঁদিপুরে পিনাকা গাইডেড রকেটের সফল পরীক্ষা ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় নতুন মাইলফলক

প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করল ভারত। মঙ্গলবার ওড়িশার চাঁদিপুরে অবস্থিত ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ থেকে ভারতর প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা—ডিআরডিও সফলভাবে পিনাকা লং রেঞ্জ গাইডেড রকেটের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে। ৬০ কিলোমিটার দূরবর্তী সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে এই রকেটটি নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উৎক্ষেপণের পর রকেটটি তার পূর্বনির্ধারিত গতিপথ ও কৌশলসমূহ সফলভাবে বজায় রেখেছে। উৎক্ষেপণস্থলে থাকা বিভিন্ন অত্যাধুনিক পর্যবেক্ষণ যন্ত্র রকেটটির প্রতিটি মুহূর্তের তথ্য ও গতিবিধি নিখুঁতভাবে ধারণ করেছে। এই নতুন রকেটটি তৈরি করেছে আর্মামেন্ট রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এস্টাবলিশমেন্ট। এই উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে হাই এনার্জি ম্যাটেরিয়ালস রিসার্চ ল্যাবরেটরি, ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ল্যাবরেটরি এবং রিসার্চ সেন্টার ইমারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এই পরীক্ষার বিশেষ তাৎপর্য হলো, বর্তমানে সেনাবাহিনীতে ব্যবহৃত পিনাকা লঞ্চার থেকেই নতুন এই গাইডেড রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে একই লঞ্চার ব্যবহার করে বিভিন্ন পাল্লার রকেট ছোড়া সম্ভব হবে, যা যুদ্ধক্ষেত্রে লজিস্টিক সুবিধা ও দ্রুত মোতায়েনের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। আলাদা লঞ্চারের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পাওয়ায় সামরিক কৌশল প্রয়োগে আরও নমনীয়তা আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এই সফল উৎক্ষেপণের জন্য ডিআরডিও, ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত শিল্প সংস্থাগুলোকে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ভারতর প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি একে ভারতের আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির বড় সাফল্য হিসেবে অভিহিত করে জানান যে, দেশীয় প্রযুক্তিতে এমন উন্নত অস্ত্র নির্মাণ দেশটির সামগ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও অপরাজেয় করে তুলবে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

পরীক্ষাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন প্রতিরক্ষা সচিব এবং ডিআরডিও-র চেয়ারম্যান রাজেশ কুমার সিং। এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী ও সামরিক কর্মীদের অভিনন্দন জানান। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, পিনাকা লং রেঞ্জ গাইডেড রকেটের অন্তর্ভুক্তি সীমান্তে ভারতর আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দ্রুত ও নির্ভুল হামলায় সেনাবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি করবে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%