তৃণমূলের অন্দরে জল্পনার মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্যের বার্তা দিলেন শতাব্দী রায়

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দলত্যাগীদের সারি দীর্ঘ হওয়ার মধ্যেই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করলেন বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়। সম্প্রতি এক জনসমক্ষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই আছেন এবং তাঁকে ভালোওবাসেন। অথচ এর পাশাপাশি ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই-তে নিজের যোগদানের বিষয়টিও তিনি স্পষ্ট করেছেন, যা ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ সংকটের নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বিজ্ঞাপন

বিধানসভা নির্বাচনের ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেস থেকে ২০ জন লোকসভার সাংসদ সম্পর্ক ছিন্ন করে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন। বর্তমানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিদ্রোহী নেতারা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে দাবি করে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন, যা দলের প্রতীক নিয়ে আইনি জটিলতা আরও ঘনীভূত করেছে। এমতাবস্থায় বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে ঋতব্রত শিবিরের কোনো আঁতাত রয়েছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে। তবে শতাব্দী রায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দলত্যাগীদের সঙ্গে তার কোনো আলোচনা হয়নি এবং এ বিষয়ে তিনি অবগত নন।

এরই মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। এই নৃশংস ঘটনাকে জঘন্যতম আখ্যা দিয়ে ভারতের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ইতিমধ্যে পুলিশ মূল অভিযুক্তসহ জড়িতদের গ্রেপ্তার করেছে। এই ভয়াবহ ঘটনা প্রসঙ্গে শতাব্দী রায় বলেন, আইনের শাসন বজায় রাখা জরুরি এবং দোষীরা অবশ্যই কঠোর শাস্তি পাবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।

নির্বাচনের পরবর্তী দীর্ঘ বিরতি ভেঙে বীরভূমে নিজের সংসদীয় এলাকায় ফিরেছেন অভিনেত্রী ও সাংসদ শতাব্দী রায়। সোমবার তিনি সিউড়িতে জেলা পুলিশ সুপারের দপ্তরে গিয়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে এক জরুরি বৈঠক করেন। এরপর তিনি রামপুরহাটে নিজের ব্যক্তিগত ফ্ল্যাটেও যান। দলের সংকটের আবহে তার এই সফর ও মন্তব্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%