তরুণ তুর্কিদের হাত ধরে বিশ্বজয়ের মিশনে নতুন স্বর্ণযুগের অপেক্ষায় স্পেন

ইউরো চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে পা রাখা স্পেন এখন ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আলোচিত দল। ২০০৮ থেকে ২০১২ সালের সেই স্বর্ণালী প্রজন্মের পর স্পেনের ফুটবলে আবারও এক ঝাঁক তরুণ প্রতিভার উদয় ঘটেছে, যাদের হাত ধরে দলটি দীর্ঘ সময় পর বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় শিরোপা জয়ের পর থেকেই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে স্পেনের ভাগ্য বিড়ম্বনা সঙ্গী হয়েছে, যেখানে ২০১০ সালের পর থেকে তারা একবারও শেষ ষোলোর গণ্ডি পার হতে পারেনি। তবে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে এবার তারা এক ভিন্ন কৌশলে খেলছে, যেখানে পুরনো তিকি-তাকা ধারার চেয়ে গতি এবং সরাসরি আক্রমণে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে শিরোপা জেতা স্পেন বর্তমানে আন্তর্জাতিক ফুটবলে দারুণ ছন্দে রয়েছে। মার্চ ২০২৪ থেকে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তারা ২৮ ম্যাচে অপরাজিত থাকার গৌরব অর্জন করেছে। যদিও ২০২৫ সালের নেশন্স লিগ ফাইনালে পর্তুগালের কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হার তাদের অপরাজেয় রেকর্ডে সামান্য ছেদ ফেলেছে। বার্সেলোনার বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামাল বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা তরুণ প্রতিভা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সী এই উইঙ্গার এবারের মৌসুমে ক্লাব ফুটবলে ১৬টি গোল এবং ১১টি অ্যাসিস্ট করে তার বিধ্বংসী ফর্মের জানান দিয়েছেন। তাকে ঘিরে স্পেনের প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে।

দলটির প্রাণভোমরা হিসেবে পরিচিত রদ্রি ইনজুরির ধকল কাটিয়ে কতটা ছন্দে ফিরতে পারেন, তা নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে কোচ দে লা ফুয়েন্তের। একইসঙ্গে মিকেল মেরিনো বা ফাবিয়ান রুইজের ফিটনেস নিয়েও অনিশ্চয়তা আছে। এছাড়া গোলপোস্টের নিচে উনাই সিমন এবং ডেভিড রায়ার ওপর নির্ভর করছে স্পেনের রক্ষণভাগের নিশ্চয়তা। স্ট্রাইকার হিসেবে মিকেল ওয়ারজাবাল বা ফেরান তোরেসের ওপর ভরসা রাখলেও, বিশ্বমানের একজন ক্লিনিকাল ফিনিশারের অভাব স্পেনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে বার্সেলোনার ৮ জন খেলোয়াড় নিয়ে গড়া বর্তমান দলটি ঐতিহ্যের চেয়ে তারুণ্য এবং ব্যক্তিগত দক্ষতার ওপরই বেশি বাজি ধরছে।

স্পেন তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করবে গ্রুপ ‘এইচ’-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে। এরপর সৌদি আরবের মুখোমুখি হওয়ার পর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ উরুগুয়ে। মার্সেলো বিয়েলসার শিষ্যদের বিপক্ষে মেক্সিকোর গুয়াদালাহারার উত্তপ্ত আবহাওয়া স্পেনের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে। ফিদেলিকো ভালভার্দে কিংবা ডারউইন নুনেজের মতো তারকাদের সামলে উরুগুয়ের বিপক্ষে জয় পাওয়া স্পেনের জন্য কঠিন হলেও, দলীয় শক্তির বিচারে তারা অনেক এগিয়ে।

বিজ্ঞাপন

স্পেনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৯টি গোল করেছেন ডেভিড ভিয়া, আর সার্জিও বুসকেটস, ইকার ক্যাসিয়াস ও সার্জিও রামোস দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১৭টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেছেন। সেই সোনালী অতীতের চেয়ে এবারের স্পেন আরও বেশি ক্ষিপ্র এবং তরুণ। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি ক্লাবের আনুগত্যের চেয়ে খেলোয়াড়দের জাতীয় দলের প্রতি আবেগ এবং উদ্দীপনাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। স্পেনের এই নতুন প্রজন্ম যদি শেষ পর্যন্ত নিজেদের সামর্থ্যের পুরোটা ঢেলে দিতে পারে, তবে ২০২৬ সালে শিরোপা উৎসবের কেন্দ্রে ‘লা রোজা’দের দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

0%
0%
0%
0%