প্যারাগুয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স, ম্যাচ শেষে এমবাপের আচরণ নিয়ে বিতর্ক

ফিলাডেলফিয়ার লিঙ্কন ফিনান্সিয়াল ফিল্ডে উত্তেজনাকর এক লড়াইয়ে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে পরাজিত করে ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স। ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার তীব্র দাবদাহে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ৯০ মিনিট জুড়ে ছিল ফাউল, কড়া ট্যাকল এবং স্নায়ুচাপের লড়াই। ম্যাচে জয়সূচক গোলটি আসে ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপের পা থেকে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ধরে রাখার চেষ্টা করে দিদিয়ের দেশঁর শিষ্যরা। তবে প্যারাগুয়ে শুরু থেকেই অত্যন্ত রক্ষণাত্মক ও শারীরিক ফুটবল খেলার কৌশল নেয়, যা ম্যাচে বারবার উত্তেজনার জন্ম দেয়। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে আন্দ্রেস কুবাসের একটি বিতর্কিত চ্যালেঞ্জকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ব্যাপক বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়, যা মুহূর্তের জন্য পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে।
দ্বিতীয়ার্ধেও ফ্রান্স আক্রমণের ধার বজায় রাখলেও প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হয়। ৬১ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা দেসিরে দুয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। তিনি ডি-বক্সের ভেতর দিয়েগো গোমেজের ফাউলের শিকার হলে ভিএআরের সহায়তায় রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ৭০ মিনিটে ঠান্ডা মাথায় গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপে। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার সপ্তম এবং সামগ্রিক বিশ্বকাপে মোট ১৯তম গোল।
পেনাল্টির আগে প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়রা এমবাপের মনঃসংযোগ নষ্ট করার জন্য পেনাল্টি স্পট নষ্ট করার মতো অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ করলেও ফরাসি অধিনায়ক অবিচল ছিলেন। শেষ দিকে গোল শোধ করতে মরিয়া প্যারাগুয়ে চাপ বাড়ালেও ফ্রান্সের রক্ষণভাগ তা সফলভাবে প্রতিহত করে। এমনকি যোগ করা সময়ে এমবাপে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেলেও প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলের ডাবল সেভ ম্যাচে আর গোল হতে দেয়নি।
ম্যাচ শেষে অনাকাঙ্ক্ষিত এক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর অরল্যান্ডো গিল করমর্দনের জন্য হাত বাড়ালেও এমবাপে তা উপেক্ষা করে সতীর্থদের সাথে উদযাপনে মগ্ন হয়ে যান। এ বিষয়ে গিল কিছুটা মেজাজ হারিয়ে ফেললেও এমবাপে কোনো মন্তব্য করেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি কেবল ‘কাজের আরেকটি দিন’ বলে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।
বিজয়ী দলের অধিনায়ক এমবাপে জানান, প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে জয়লাভের জন্য সব ধরনের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে তারা প্রস্তুত। এই জয়ের ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে মরক্কো। ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের পুনরাবৃত্তি হিসেবে আসন্ন ম্যাচটি ঘিরে ফুটবল বিশ্বে এখন থেকেই ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস