আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলেও দেশে জ্বালানির দামে আপাতত মিলছে না স্বস্তি

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারের নিচে নেমে এলেও ভারতের সাধারণ ভোক্তারা জ্বালানি তেলের দাম কমার সুফল এখনই পাচ্ছেন না। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলোর বিপুল লোকসান পুষিয়ে নেওয়া এবং জনগণের সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া আর্থিক পদক্ষেপের জেরেই এই স্থবিরতা বজায় রয়েছে। সরকারি সূত্রের দাবি, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের সময় জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে যে আর্থিক ক্ষত তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ করাই এখন সংস্থাগুলোর মূল লক্ষ্য।

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভারত কর্তৃক আমদানিকৃত ‘ইন্ডিয়ান বাস্কেট’ অশোধিত তেলের গড় মূল্য বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি ৬৮.৮৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অথচ পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরুর পর গত ২৩ মার্চ এই মূল্য ১৫৭.০৪ ডলারে পৌঁছেছিল, যা ছিল গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এরপর জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ৮০ ডলারের নিচে এবং মাসের শেষ দিকে তা ৭০ ডলারের গণ্ডি অতিক্রম করে নেমে আসে।

আন্তর্জাতিক বাজারে দামের পতনে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। সূত্রমতে, বর্তমানে পেট্রল বিক্রিতে প্রতি লিটারে প্রায় ৫ থেকে ৬ টাকা বিপণন মার্জিন পাওয়া গেলেও, ডিজেল বিক্রিতে কোম্পানিগুলোকে এখনও লিটারপ্রতি ৮ থেকে ১০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। মূলত দেশের মোট চাহিদার ৮৮ শতাংশের বেশি জ্বালানি তেল বিদেশ থেকে আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা ভারতের অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে।

সংঘাতকালীন সময়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হলেও অভ্যন্তরীণ খুচরা বাজারে পেট্রল ও ডিজেলের দাম দীর্ঘ সময় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। এর ফলে ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোকে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত ২৭ মার্চ ভারত সরকার পেট্রল ও ডিজেলে লিটারপ্রতি ১০ টাকা আবগারি শুল্ক হ্রাস করে। তবে পরবর্তীতে বৈশ্বিক অস্থিরতা ও হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে আবারও দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মে মাসে পেট্রলের দাম ৭.৩৫ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৭.৫৩ টাকা বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয় বিপণন সংস্থাগুলো।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার অগ্রগতি এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ভারতর পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি জানান, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও ভোক্তাদের ওপর মূল্যের পূর্ণ চাপ পড়তে দেওয়া হয়নি। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ভোক্তাদের সুরক্ষায় কেন্দ্র প্রায় ১.২৩ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক বোঝা বহন করেছে এবং আবগারি শুল্ক কমানোর কারণে প্রতি মাসে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ছাড় দিতে হয়েছে। মন্ত্রী আরও যোগ করেন, তেলের উৎস বৈচিত্র্যকরণ এবং মজুত পরিকাঠামোয় বিনিয়োগের ফলেই কঠিন সংকটের মধ্যেও দেশে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়েছে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%