টেক্সাসের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে জন কর্নিনকে হারিয়ে জয়ী কেন প্যাক্সটন

টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান দলীয় প্রাইমারি নির্বাচনে বর্তমান সিনেটর জন কর্নিনকে পরাজিত করে বড় জয় পেয়েছেন কেন প্যাক্সটন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সমর্থনপুষ্ট প্যাক্সটনের এই বিজয় প্রমাণ করল যে, নানা বিতর্ক ও কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত হওয়া সত্ত্বেও একজন প্রার্থী দলের শক্ত ঘাঁটিতে ট্রাম্পের আশীর্বাদ নিয়ে জয়ী হতে পারেন। দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও টানা ১৮ বার জয়ী হওয়ার পর প্রথমবারের মতো এমন পরাজয়ের মুখোমুখি হয়ে কর্নিন জানিয়েছেন, তিনি বরাবরের মতো এবারও দলীয় প্রার্থীর প্রতি সমর্থন বজায় রাখবেন।
নির্বাচনী এই ফলাফল নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। প্যাক্সটন এখন মূল লড়াইয়ে মুখোমুখি হবেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জেমস টালেরিকোর। একজন ধর্মযাজক ও আইনপ্রণেতা হিসেবে টালেরিকোর শান্তি ও জনমুখী বার্তা বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, টালেরিকো জয়ী হলে গত ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে টেক্সাসে প্রথম ডেমোক্র্যাট হিসেবে কোনো অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের পদে নির্বাচিত হওয়ার নজির গড়বেন তিনি।
২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের কাছে ১৪ শতাংশের বড় ব্যবধানে হারলেও রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে টেক্সাস এখনো অটুট। এবারের প্রাইমারি নির্বাচন প্রমাণ করেছে যে, অর্থনীতি থেকে শুরু করে ধর্মীয় মূল্যবোধের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলো এখনো ভোটারদের মাঝে বড় প্রভাব ফেলে। প্যাক্সটন ২০১৪ সালে প্রথমবার অ্যাটর্নি জেনারেল নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই নিজেকে উগ্র ডানপন্থীদের জাতীয় নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সচেষ্ট ছিলেন। গর্ভপাতবিরোধী আইন ও ট্রান্সজেন্ডার তরুণদের চিকিৎসার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি জো বাইডেনের বিজয়ের ফলাফল উল্টে দিতে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা মামলা তাকে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ব্র্যান্ডন রটিংহাউসের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের উত্থানের অনেক আগে থেকেই প্যাক্সটন উগ্র ডানপন্থার অগ্রভাগে ছিলেন, যা পরবর্তীতে ‘মাগা’ বা মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন আন্দোলনের ভিত্তি তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। তবে এই বিজয় প্যাক্সটনের জন্য নতুন চিন্তার কারণও হতে পারে। দুর্নীতির দায়ে অভিশংসন, এফবিআইয়ের তদন্ত এবং সিকিউরিটিজ জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত প্যাক্সটনের মনোনয়ন নিয়ে রিপাবলিকানদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মধ্যে উদ্বেগের শেষ নেই।
নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছেন প্যাক্সটন। গত বছর দীর্ঘ ৩৮ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছেন তার স্ত্রী অ্যাঞ্জেলা প্যাক্সটন। অন্যদিকে, জন কর্নিন সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হওয়ার দৌড়ে থাকলেও ট্রাম্পের রোষানলে পড়ে নিজের আসন রক্ষা করতে ব্যর্থ হলেন। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিশ্বস্ততার অভাবের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ‘অত্যন্ত অবিশ্বস্ত’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট, যার প্রভাব চূড়ান্ত ফলাফলে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান