কাশ্মীরি পরিচিতি নিয়ে মন্তব্যের জেরে খাজা আসিফের কড়া সমালোচনা করলেন পাক অধিকৃত কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের তথাকথিত প্রধানমন্ত্রী ফয়সাল মুমতাজ রাঠোর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন। সম্প্রতি কাশ্মীরের জনগণের জাতিগত পরিচয় নিয়ে খাজা আসিফের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটল। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাজা আসিফ এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন যে রাওলাকোট ও মিরপুরের বাসিন্দারা প্রকৃত কাশ্মীরি নন। এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে রাঠোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন যে, কাশ্মীরিদের জাতিগত পরিচয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কাছ থেকে কোনো সনদের প্রয়োজন নেই।
ফয়সাল মুমতাজ রাঠোর আরও বলেন যে, খাজা আসিফের মতো বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন কথাবার্তা কাশ্মীরি জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে। নিজের ভুল ঢাকতে তিনি এখন পিওকে প্রশাসনের ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টা করছেন বলেও রাঠোর অভিযোগ তোলেন। রাঠোর পরামর্শ দেন যে, নিজের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়াই হতো একজন মন্ত্রীর জন্য সম্মানের কাজ, বরং পিওকে প্রশাসনকে বলির পাঁঠা বানানো তার অনুচিত।
এদিকে খাজা আসিফ সম্প্রতি ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের হুমকি দিয়ে এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন। এআরওয়াই নিউজের সাথে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াতে পিছপা হবে না, বিশেষত সিন্ধু নদের জল নিয়ে কোনো বিবাদ সৃষ্টি হলে। এমন প্ররোচনামূলক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ভারত সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল পাকিস্তানের এই দাবিকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে এটিকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছেন।
রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, নিজেদের দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অর্থনৈতিক সংকট থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি সরাতেই পাকিস্তান সরকার ক্রমাগত ভারতবিরোধী বাগাড়ম্বর করছে। তিনি পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে চলমান গণবিক্ষোভ ও সাধারণ মানুষের ওপর পাকিস্তান সরকারের পুলিশি নির্যাতনের বিষয়টিও স্পষ্ট করেন। মুখপাত্রের ভাষ্যমতে, বহু দশক ধরে চলা অর্থনৈতিক শোষণ এবং মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের জেরেই আজ সেখানকার মানুষ রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন, আর পাকিস্তান সরকার তার জবাবে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করা ও নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার মতো বর্বরোচিত পথ বেছে নিয়েছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস