করাচি হামলায় ভারতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ভিত্তিহীন আখ্যা দিল নয়াদিল্লি

পাকিস্তানের করাচিতে আধাসামরিক বাহিনীর ঘাঁটিতে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার দায় ভারতের ওপর চাপানোর অপপ্রয়াসকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে নয়া দিল্লি। রবিবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইসলামাবাদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, অন্যের দিকে আঙুল তোলার পুরনো অভ্যাসের পরিবর্তে পাকিস্তানের উচিত নিজেদের ভূখণ্ডে সক্রিয় থাকা সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো ধ্বংস করার দিকে মনোযোগ দেওয়া।

বিজ্ঞাপন

শনিবার করাচিতে সিন্ধ রেঞ্জার্সের ঘাঁটিতে সশস্ত্র জঙ্গিরা অতর্কিত হামলা চালালে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকাটি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ভয়াবহ হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর চার সদস্য নিহত হয়েছেন। পাল্টা অভিযানে ছয় জঙ্গি প্রাণ হারায় এবং এক হামলাকারীকে জীবিত অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়। কোনো অকাট্য প্রমাণ ছাড়াই পাকিস্তান দাবি করে যে, এই হামলার নেপথ্যে ভারতের মদত রয়েছে।

ইসলামাবাদের এই ভিত্তিহীন অভিযোগের প্রেক্ষিতে রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে সন্ত্রাসবাদ ব্যবহারের যে প্রবণতা পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে লালন করছে, তা থেকে তাদের বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। নয়াদিল্লি সাফ জানিয়েছে যে, এই ধরনের ভিত্তিহীন ও বিদ্বেষপূর্ণ প্রচারণা সত্যকে আড়াল করতে পারবে না।

এদিকে, করাচির এই হামলার দায়ভার স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের সহযোগী গোষ্ঠী জামাত-উল-আহরার। শনিবার গভীর রাতে একটি ভারী অস্ত্রসজ্জিত গাড়ি নিয়ে জঙ্গিরা আধাসামরিক বাহিনীর কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে এবং নির্বিচারে গুলি বর্ষণ শুরু করে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত ও ধৃত হামলাকারীদের মধ্যে আফগানিস্তানের নাগরিকের উপস্থিতিও রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক টানাপোড়েন চরম আকার ধারণ করেছে। আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার জেরেই এই হামলা চালানো হয়েছে কি না, তা নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক জল্পনা তৈরি হয়েছে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%