AdvertisementAdvertisement

রেল স্টেশনের পর এবার কি কলকাতার ফুটপাতও হকারমুক্ত হতে চলেছে?

রেল স্টেশন চত্বর থেকে অবৈধ হকার ও দোকানপাট উচ্ছেদের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কি কলকাতার রাজপথও হকারমুক্ত হতে চলেছে—এই প্রশ্নই এখন শহরজুড়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নিউটাউনের ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে এসে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের সাম্প্রতিক মন্তব্য এই জল্পনাকে আরও জোরালো করে তুলেছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ফুটপাত, রাস্তা কিংবা রেল প্ল্যাটফর্ম ব্যবসা পরিচালনার জায়গা নয়, যা ইঙ্গিত দেয় যে রেলের অভিযানের আদলে এবার শহরের ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত করার পথে হাঁটতে পারে প্রশাসন।

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই রেল স্টেশনগুলোতে জবরদখল উচ্ছেদে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় হাওড়া, শিয়ালদহ, দমদম ও পার্ক সার্কাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে বুলডোজার চালিয়ে অবৈধ দোকানপাট সরিয়ে ফেলা হয়েছে। রেল প্রশাসনের দাবি, যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করাই এই কঠোর অভিযানের মূল লক্ষ্য।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এদিন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ফুটপাত ও রাস্তা সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য, ব্যবসা করার জন্য নয়। সাধারণ মানুষ কর প্রদান করেন এবং তাদের নির্বিঘ্নে চলাচলের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, যারা ফুটপাতে দোকান বসিয়েছেন এবং যারা বসিয়েছেন, উভয় পক্ষকেই বিষয়টি অনুধাবন করতে হবে। অযথা চেঁচামেচি না করে দখলদারদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে সরে যাওয়াই শ্রেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে যে, কলকাতার উত্তর ও দক্ষিণের বহু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার ফুটপাত হকারদের দখলে চলে যাওয়ায় পথচারীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মূল রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে, যা শহরজুড়ে তীব্র যানজট ও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। এছাড়া ফুটপাতে অবৈধ দোকানের কারণে বৈধ ব্যবসায়ীরাও চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। মন্ত্রীর মতে, শহরের সংকীর্ণ রাস্তা ও যানবাহনের চাপের মধ্যে নাগরিকদের ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করা কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং এই পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন প্রয়োজন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

যদিও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কলকাতা জুড়ে হকার উচ্ছেদ অভিযানের কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে মন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থান প্রশাসনিক মহলে বড় ধরনের অভিযানের সংকেত দিচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, অচিরেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, ফুটপাত এবং উড়ালপুলের নিচের অবৈধ দখলদারি সরাতে বড় ধরনের বুলডোজার অভিযান শুরু হতে পারে।

এদিকে, সম্ভাব্য এই উচ্ছেদ অভিযানের খবরে স্থানীয় হকারদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পুনর্বাসনের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা ছাড়া উচ্ছেদ করা হলে হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবিকা চরম সংকটের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। নাগরিক স্বার্থে ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং অসহায় ব্যবসায়ীদের রুটিরুজির সংস্থানের মধ্যে প্রশাসন কীভাবে ভারসাম্য বজায় রাখে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় কলকাতাবাসী।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%