ফ্ল্যাট হস্তান্তরে বিলম্ব হলে ক্ষতিপূরণ পাবেন ক্রেতা, যুগান্তকারী রায় সুপ্রিম কোর্টের

ফ্ল্যাট হস্তান্তরে দীর্ঘসূত্রতার শিকার ক্রেতারা এখন থেকে অনায়াসেই ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন বলে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশনার মাধ্যমে জাতীয় উপভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের (এনসিডিআরসি) ২০১৬ সালের একটি বিতর্কিত আদেশ বাতিল করা হলো। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, ফ্ল্যাটের দখল বুঝে নেওয়ার পর পরিষেবার ঘাটতিজনিত কারণে ক্রেতারা আর ক্ষতিপূরণের দাবি করতে পারেন না। তবে সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, দখল বুঝে নেওয়া মানেই অভিযোগ করার অধিকার বিলুপ্ত হওয়া নয়।
বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন। ঘটনাটি শুরু হয় ২০০৩ সালের জানুয়ারি মাসে, যখন দিল্লির এক ব্যক্তি একটি সমবায় গ্রুপ হাউজিং সোসাইটির সদস্য হয়ে ফ্ল্যাট বরাদ্দ পান। কিন্তু ফ্ল্যাট হস্তান্তরে অস্বাভাবিক দেরি হওয়ায় তিনি জেলা উপভোক্তা ফোরামে মামলা করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর এনসিডিআরসি ওই আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল, যা বর্তমানে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত উল্টে দিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ফ্ল্যাটের দখল পেতে বিলম্বের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি অবশ্যই প্রকৃত দখল হস্তান্তরের আগের সময় থেকে কার্যকর হবে। আদালত ৪ জুনের রায়ে উল্লেখ করেছে, পরবর্তীতে ফ্ল্যাটের দখল গ্রহণ কোনোভাবেই বিলম্বের কারণে হওয়া ক্ষতির প্রতিকার পাওয়ার অধিকারকে কেড়ে নিতে পারে না। এই সিদ্ধান্ত সাধারণ ক্রেতাদের সুরক্ষায় একটি শক্তিশালী আইনি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।
আদালত আরও জানিয়েছে, ১৯৮৬ সালের উপভোক্তা সুরক্ষা আইন একটি কল্যাণমূলক আইন, যার মূল লক্ষ্য হলো ত্রুটিপূর্ণ পরিষেবা বা পণ্যের বিরুদ্ধে দ্রুত ও স্বল্পমূল্যের প্রতিকার নিশ্চিত করা। এই আইনের ৩ নম্বর ধারার উল্লেখ করে বেঞ্চ স্পষ্ট করেছে যে, চুক্তিতে সালিশি ধারা বা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা থাকলেও তা উপভোক্তা ফোরামের এখতিয়ারকে খর্ব করতে পারে না। অর্থাৎ, অন্য কোনো বিচারিক পদ্ধতির উপস্থিতি থাকলেই যে ক্রেতার ভোক্তা হিসেবে মামলা করার অধিকার বাতিল হয়ে যাবে, তা আইনত গ্রহণযোগ্য নয়।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস