প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষকের নিয়োগ জটিলতা নিরসনে আপিলের রায়

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষকের নিয়োগ ও জ্যেষ্ঠতা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান ঘটেছে। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এক যুগান্তকারী রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করায় এই জটিলতা নিরসন হলো। এর ফলে ২০১৩ সালে জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের বেতন স্কেল ও প্রশাসনিক পদমর্যাদা নিয়ে চলমান অস্বস্তির পরিসমাপ্তি ঘটল।

বিজ্ঞাপন

রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল গণমাধ্যমকে জানান, উচ্চ আদালতের এ রায় সম্পূর্ণরূপে সরকারের পক্ষে এসেছে। ২০১৩ সালে সরকার যখন ২৬ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের আওতায় আনে, তখন প্রণীত আইন অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকসহ সকল শিক্ষককে সরকারি চাকরিতে ‘সহকারী শিক্ষক’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, আজকের এই রায়ের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা দূর হবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালে অধিগ্রহণকৃত বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের ৫০ শতাংশ চাকরিকাল গণনা করে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ, প্রধান শিক্ষকের স্কেলে বেতন-ভাতা প্রাপ্তি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সুবিধা দাবি করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন। সেই রিটের প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ১১ মার্চ হাইকোর্ট রুল আংশিক মঞ্জুর করে রায় প্রদান করেছিলেন। পরবর্তীতে সেই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করলে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর চূড়ান্তভাবে তা সরকারের পক্ষে নিষ্পত্তি হলো।

তারেক রহমান সরকারের এই সিদ্ধান্ত ও আপিল বিভাগের রায়ের ফলে প্রাথমিক শিক্ষা খাতের শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হওয়ার আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের এই আইনি বাধার সুরাহা হওয়ায় এখন বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%