ভারত ও পাকিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন নিয়ে উভয় দেশের বিমানের পাল্টাপাল্টি অনুপ্রবেশের ঘটনা তদন্তে

ভারতের আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। গত ২২ জুন দিল্লি থেকে অমৃতসরগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি যাত্রীবাহী বিমান যান্ত্রিক ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে সাময়িকভাবে পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। ফার্স্ট পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত হয় অমৃতসর বিমানবন্দরে পাখি আঘাত হানার একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জেরে। এর ফলে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে এয়ার ইন্ডিয়ার ওই বিমানটিকে দীর্ঘক্ষণ আকাশে অপেক্ষা করতে হয়, যা পরবর্তীতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
বিমান সংস্থাটির তথ্যমতে, গত ২২ জুন বিকেল ৪টা ২৯ মিনিট নাগাদ অমৃতসর বিমানবন্দরে একটি বিমানে পাখি ধাক্কা মারার ঘটনা ঘটে। এর জেরে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পাঁচটি বিমানকে আকাশে ‘হোল্ড’ বা অপেক্ষমাণ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের নির্দেশ অনুযায়ী পাইলটকে আন্তর্জাতিক সীমানার দিকে এগিয়ে যেতে বলা হলে, রাত ১০টা ৮ মিনিট নাগাদ এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি পাকিস্তানের লাহোরের আকাশসীমায় প্রায় ৩ মাইল ভেতরে ঢুকে পড়ে। বেসামরিক বিমান পরিবহন অধিদপ্তর বা ডিজিসিএ জানিয়েছে, রাডার ভেক্টরিংয়ের সময় অবতরণের প্রস্তুতি নেওয়ার মুহূর্তে এই অনুপ্রবেশ ঘটে। তবে বিষয়টি দ্রুত পাকিস্তানের এটিসি কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত বিমানটি নিরাপদে দিল্লিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটির বিষয়ে ইতিমধ্যে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ভারত ও পাকিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘনের পালটা অভিযোগ সামনে এসেছে। তথ্য প্রদানকারী সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এয়ার ইন্ডিয়ার ওই ঘটনার ঠিক ১০ দিন আগে, গত ১২ জুন পাকিস্তানের অন্তত তিনটি বাণিজ্যিক বিমান ভারতের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে প্রবল ঝড় ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে লাহোর ও এর আশপাশের এলাকায় বিমান চলাচল ব্যাহত হয়।
দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি এড়াতে লাহোর থেকে দুবাই ও জেদ্দাগামী ‘ফ্লাই জিন্নাহ’ সংস্থার দুটি এবং দাম্মাম থেকে লাহোরগামী ‘এয়ার সিয়াল’ সংস্থার একটি ফ্লাইট ভারতের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। ঝড়ের কবলে পড়ে বিপজ্জনক এলাকা এড়িয়ে যাওয়ার জন্যই বিমানগুলোকে সাময়িকভাবে গতিপথ পরিবর্তন করতে হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। দুই প্রতিবেশী দেশের আকাশসীমায় পর পর এই ধরণের অনুপ্রবেশের ঘটনা বিমান নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের নজরদারির সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস