মেসির আচরণ নিয়ে ফিফায় আলজেরিয়ার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ, বিশ্ব ফুটবলে বিতর্কের ঝড়

ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে মেসির এক বিতর্কিত আচরণকে কেন্দ্র করে উত্তর আফ্রিকার দেশটি ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। আলজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশনের দাবি, মাঠে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে আঘাত করার পরেও মেসিকে লাল কার্ড না দেখানোয় ম্যাচ পরিচালনার ক্ষেত্রে দ্বৈত মানদণ্ডের প্রতিফলন ঘটেছে।
ঘটনাটি ঘটে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার মধ্যকার লড়াই চলাকালীন। টেলিভিশন রিপ্লে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা যায়, আর্জেন্টাইন অধিনায়ক পিছন দিক থেকে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়কে বুটের স্পাইক দিয়ে আঘাত করেন। কিন্তু ম্যাচের রেফারি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির সহায়তা নেওয়া সত্ত্বেও মেসিকে কেবল মৌখিক সতর্কবার্তা প্রদান করেই ছেড়ে দেন, যা নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
আলজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশনের অভিযোগপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, একই ধরনের অপরাধের জন্য অন্য কোনো সাধারণ খেলোয়াড় হলে তাকে নির্দ্বিধায় মাঠ ছাড়তে হতো। তাদের ভাষ্যমতে, বিশ্ব ফুটবলের বড় তারকাদের ক্ষেত্রে যদি আলাদা ও নমনীয় মানদণ্ড প্রয়োগ করা হয়, তবে তা বৈশ্বিক এই প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নের মুখে ফেলবে।
এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে দুই মেরুর সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকদের একাংশ মনে করেন, মেসির জনপ্রিয়তার আড়ালে রেফারিংয়ে পক্ষপাতিত্বের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের দাবি, ঘটনাটিকে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে এবং মাঠের কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণের ওপর আস্থা রাখা উচিত।
বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় রেফারিং নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়, তবে মেসির মতো প্রভাবশালী খেলোয়াড়কে জড়িয়ে এমন বিতর্ক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ বিষয়ে ফিফা এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেনি। আলজেরিয়ার দায়ের করা এই অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে। এখন সারা বিশ্বের ফুটবল সমর্থকদের নজর ফিফার পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই নিবদ্ধ।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
