উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে অসমে নতুন আর্টিলারি ব্রিগেড ঘাঁটি গড়ছে ভারত

উত্তর-পূর্ব ভারতে সামরিক পরিকাঠামো আরও সুদৃঢ় করতে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ভারত সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। অসমের গোলাঘাট জেলায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর নতুন একটি আর্টিলারি ব্রিগেড ঘাঁটি স্থাপনের লক্ষ্যে ৩৩৩.৬৬২ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগ অঞ্চলটিতে ভারতের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত প্রস্তুতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক সূত্রের তথ্যানুযায়ী, জমি অধিগ্রহণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে অসম সরকার এবং ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করেই এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা সীমান্ত নিরাপত্তা ও দ্রুত সেনা মোতায়েনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল দীর্ঘকাল ধরেই ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। এই অঞ্চলের সঙ্গে একাধিক প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সীমান্ত থাকায়, সীমান্ত সুরক্ষায় উন্নত সামরিক পরিকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। নতুন আর্টিলারি ব্রিগেড ঘাঁটি স্থাপনের ফলে এই অঞ্চলে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের অভিমত, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে দূরপাল্লার নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম কামান বা আর্টিলারি বাহিনীর গুরুত্ব অপরিসীম। অসমে নতুন এই ঘাঁটি তৈরি হলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারতের কার্যক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া এই প্রকল্পের ফলে স্থানীয় পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতের সামরিক আধুনিকীকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নতুন রাস্তা, সেতু ও সামরিক স্থাপনা নির্মাণের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় গোলাঘাটের এই প্রকল্প ভারতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে আরও মজবুত করবে। সামগ্রিকভাবে, ৩৩৩ একরের বেশি জমি অধিগ্রহণের এই উদ্যোগ কেবল একটি ঘাঁটি নির্মাণ নয়, বরং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কৌশলগত অবস্থানকে সুসংহত করার এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস