পুনেতে স্বঘোষিত গুরুর আশ্রমে অকথ্য নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেফতার ৮

মহারাষ্ট্রের পুনের ওয়াঘোলি এলাকার একটি বাংলোয় গড়ে ওঠা তথাকথিত আশ্রমকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর সব অভিযোগ সামনে এসেছে। দীর্ঘ পনেরো বছর ধরে শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগে এক আইটি কর্মী মামলা দায়ের করার পর নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ। এই ঘটনায় স্বঘোষিত গুরু রাধামোহন মিশ্রসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের ডেরা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম, নগদ অর্থ ও গয়না।
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, ৫৯ বছর বয়সি রাধামোহন মিশ্র হরিয়ানার বাসিন্দা। গত আট বছর ধরে তিনি পুনের উবালেনগরে আশ্রমের আড়ালে এই সাম্রাজ্য চালাচ্ছিলেন। ভুক্তভোগী মহিলার দাবি, পরিবারের মাধ্যমেই রাধামোহনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ঘটেছিল। প্রথমে পারিবারিক সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিলেও, পরে নিজেকে ঈশ্বরের অবতার দাবি করে ওই মহিলা ও তাঁর পরিবারের ওপর অশুভ নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেন অভিযুক্ত।
নির্যাতনের ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে ওই মহিলা জানিয়েছেন, তাঁকে বারবার যৌন নিগ্রহের শিকার হতে হয়েছে। এমনকি জোরপূর্বক প্রস্রাব পান করানো, বৈদ্যুতিক শক দেওয়া এবং স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদে বাধ্য করার মতো অমানবিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া, তাঁর স্থাবর সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছিলেন। দীর্ঘ সময় মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য হলেও, শেষে আশ্রম থেকে বেরিয়ে এসে পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন।
অভিযোগ পাওয়ার পর পুনে পুলিশ গভীর রাতে ওই আশ্রমে অভিযান চালিয়ে রাধামোহন মিশ্র এবং তাঁর সাত সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে। ধৃত সহযোগীদের মধ্যে ছয়জনই নারী। তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ ১৯টি হার্ড ডিস্ক, ১২টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম, প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার গয়না এবং ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নগদ উদ্ধার করেছে। এছাড়া ১০টি কার্তুজ পাওয়া গেলেও কোনো আগ্নেয়াস্ত্র এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি।
আশ্রমের ভেতর তল্লাশি চলাকালীন তদন্তকারীদের নজরে আসে একটি রহস্যময় ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ। বাংলোর নিচে এই সুড়ঙ্গ কেন তৈরি করা হয়েছিল, তা নিয়ে ধন্দ দেখা দিয়েছে। এটি কি পালিয়ে যাওয়ার গোপন পথ হিসেবে ব্যবহৃত হতো, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। উদ্ধার হওয়া বৈদ্যুতিন সরঞ্জামগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রসহ মহারাষ্ট্রের কুসংস্কারবিরোধী আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
