রাজনীতিতে তারকাদের অন্তর্ভুক্তি বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য সংকট তৈরি করছে দাবি বিক্রমের

টলিউডের তারকাদের রাজনীতিতে যোগদানের হিড়িক এবং পরবর্তীতে তাদের বিনোদন জগতে ফিরে আসার প্রবণতা নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায়। তার মতে, অভিনেতা-অভিনেত্রীদের রাজনৈতিক পরিচিতি দর্শককে দুই ভাগে বিভক্ত করে দেয়, যা শেষ পর্যন্ত শিল্পকর্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ‘তারকাটা’ ওয়েব সিরিজের প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি সমসাময়িক বিনোদন ও রাজনীতির এই জটিল রসায়ন নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ করেন।

বিজ্ঞাপন

বিক্রমের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাঙালি দর্শক বিনোদনের চেয়ে রাজনীতি নিয়ে অনেক বেশি সচেতন। তার দাবি, একটি মানসম্মত বাংলা চলচ্চিত্র বা সিরিজ দর্শকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য শিল্পীদের যে পরিমাণ শ্রম দিতে হয়, সেই তুলনায় দর্শক সাড়া আশানুরূপ নয়। অধিকাংশ দর্শক ভালো বাংলা কাজের যথাযথ মূল্যায়ন করতে অনেকটা দ্বিধাগ্রস্ত থাকেন, যা বাংলা বিনোদন শিল্পের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ।

অভিনেতার আক্ষেপ, বাংলা ভাষার ভালো কোনো সিনেমার চেয়ে হিন্দি বা অন্য ভাষার চলচ্চিত্রের প্রতি বাঙালি দর্শকদের আগ্রহ ও প্রশংসা অনেক বেশি থাকে। তিনি মনে করেন, শিল্পীরা যখন রাজনৈতিক মতাদর্শের গণ্ডিতে আবদ্ধ হয়ে পড়েন, তখন বিনোদন জগতে সেই মেরুকরণ আরও প্রকট হয়ে ওঠে। বিশেষত একই চলচ্চিত্রে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের শিল্পী কাজ করলে দর্শকদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়, যা শিল্প উপভোগের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি জি ফাইভ প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে বিক্রম চট্টোপাধ্যায় অভিনীত নতুন ওয়েব সিরিজ ‘তারকাটা’। অ্যাকশনধর্মী এই নির্মাণে বিক্রমের বিপরীতে দেখা গেছে প্রিয়াঙ্কা সরকারকে। এছাড়া সিরিজটির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সত্যম ভট্টাচার্য এবং মায়াং চ্যাং। অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে নিজের বলিষ্ঠ অবস্থানের জন্য বিক্রম চট্টোপাধ্যায় বরাবরই আলোচনায় থাকেন।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%