ব্রিটেনে ফের এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ২৪ বছর বয়সী তরুণী কিরণদীপ কৌর। পশ্চিম লন্ডনের হেইস এলাকায় নিজের বাসভবনের শোবার ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। সন্তান জন্মের মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরই এমন নৃশংস ঘটনায় প্রবাসী ভারতীয় সমাজ ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ড্যানিয়েল শন জেমস নামে ৪৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার ভোরে হেইসের ওই বাড়ি থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় কিরণদীপের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে বাড়ির বাইরে গুরুতর জখম অবস্থায় পাওয়া যায় তাঁর স্বামীকে, যাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে ঘটনার সময় বাড়িতে থাকা সদ্যজাত শিশুটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, গ্রেপ্তারকৃত ড্যানিয়েল শন জেমসের শরীরে জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ার মতো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা ও অবৈধভাবে ধারালো অস্ত্র রাখার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যে তাঁকে উইলসডেন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়েছে। যদিও কিরণদীপের পরিবারের পক্ষ থেকে একে বর্ণবিদ্বেষমূলক হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে, তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত এটিকে 'হেট ক্রাইম' হিসেবে গণ্য করার মতো কোনো তথ্য পায়নি।
প্রায় দুই বছর আগে ভারতের পঞ্জাব রাজ্যের তরনতারন জেলার পিড্ডি গ্রাম থেকে কিরণদীপ ছাত্র ভিসায় ব্রিটেনে পাড়ি জমিয়েছিলেন। পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমানো এই তরুণীর পড়াশোনার খরচ জোগাতে বাবা সুখদেব সিং ও মা বলজিৎ কৌর তাঁদের কৃষিজমিও বিক্রি করেছিলেন। সন্তানের অকালমৃত্যুর খবরে শোকে মুহ্যমান পরিবারটি এখন কিরণদীপের মরদেহ দ্রুত ভারতে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারি সহায়তার প্রার্থনা করেছে।
নিহতের পরিবারের স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছে কিরণদীপ ছিলেন একজন হাসিখুশি ও সদালাপী মানুষ, যিনি সবে মাতৃত্বের স্বাদ উপভোগ করছিলেন। লন্ডনের পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ব্যক্তিগত শত্রুতা, মানসিক বিকার নাকি অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্রের ফসল, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় বিদেশের মাটিতে ভারতীয়দের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি আবারও জনসমক্ষে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।