পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীতে যোগদানে যুবকদের দক্ষ করে তুলতে পশ্চিম মেদিনীপুরে শুরু প্রস্তুতি প্রকল্প

পশ্চিম মেদিনীপুরের যুবসমাজের কর্মসংস্থানের পথ প্রশস্ত করতে এবং পুলিশ ও কেন্দ্রীয় আধা-সামরিক বাহিনীতে যোগদানের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে এক অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জেলা পুলিশ। ‘প্রস্তুতি’ নামের এই বিশেষ পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, শৃঙ্খলার পাঠ এবং শিক্ষাগত উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর আসন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।

প্রকল্পটির প্রথম পর্যায় পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর ও আনন্দপুর এলাকায় শুরু হয়েছে। জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক ধাপে এই অঞ্চলের বিভিন্ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৫০০ থেকে ৬০০ জন শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে, যার মধ্যে প্রায় ৩৫০ জনই ছাত্রী। এই উদ্যোগের প্রাথমিক সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে পর্যায়ক্রমে কর্মসূচিটি সমগ্র জেলায় ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ প্রশাসন।

এই প্রকল্পের অন্যতম বিশেষত্ব হলো কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর না করে জেলা পুলিশের অভিজ্ঞ আধিকারিক ও কর্মীদের সরাসরি মেন্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া। প্রশিক্ষিত পুলিশ কর্মীরা শিক্ষার্থীদের শারীরিক সহনশীলতা, ড্রিল ও ফিটনেস বাড়ানোর পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও বিনা মূল্যের কোচিং প্রদান করছেন। এ ধরণের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্পটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি শুধুমাত্র স্নাতক বা উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর শুরু না করে নবম ও দশম শ্রেণি থেকেই শুরু করা আবশ্যক। তিনি আরও জানান, সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র মূলত মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যক্রমের ওপর ভিত্তি করেই প্রণীত হয়, তাই স্কুলজীবন থেকেই বিষয়ভিত্তিক মৌলিক জ্ঞান অর্জন করলে দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য পাওয়া সহজতর হয়।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

০%
০%
০%
০%