ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারালেন প্রখ্যাত কচ্ছপ সংরক্ষক মোনা খলিল

লেবাননের সমুদ্র সৈকতে সামুদ্রিক কচ্ছপ সংরক্ষণের অগ্রদূত মোনা খলিল ইসরায়েলি হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন। সত্তর বছর বয়সী এই পরিবেশবাদী গত ৪ জুন টায়র প্রদেশের আল-মানসুরি গ্রামে নিজ বাসভবনে হামলার শিকার হন। দীর্ঘ দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত শুক্রবার তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে লেবাননের পরিবেশবাদী মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং রবিবার বৈরুতে তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হয়েছেন অসংখ্য অনুরাগী ও স্বেচ্ছাসেবী।

মোনা খলিল দীর্ঘ দুই দশক ধরে লেবাননের উপকূলে বিপন্ন প্রজাতির লগারহেড ও গ্রিন সি টার্টল বা সবুজ সামুদ্রিক কচ্ছপ রক্ষায় নিরলস কাজ করে গেছেন। আল-মানসুরি গ্রামে তিনি ‘অরেঞ্জ হাউস প্রজেক্ট’ নামে একটি সংরক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলেছিলেন, যা পরবর্তীতে ইকো-টুরিজমের একটি অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়। ১৯৪৯ সালে নাইজেরিয়ার লাগোসে জন্মগ্রহণকারী মোনা খলিল নেদারল্যান্ডসের নাগরিকত্ব পেলেও তার শেকড় ছিল লেবাননে। তার নানির পুরোনো বাড়িটিকে ঘিরেই তিনি গড়ে তুলেছিলেন কচ্ছপ রক্ষার এই অভয়ারণ্য।

১৯৯৯ সালে সৈকতে ডিম পাড়তে আসা একটি কচ্ছপের সঙ্গে আকস্মিক সাক্ষাতের পর থেকেই মোনা খলিল তার জীবনের সিংহভাগ সময় প্রাণিকুলের সেবায় উৎসর্গ করেন। প্রতি বছর কচ্ছপের প্রজনন মৌসুমে তিনি ও তার স্বেচ্ছাসেবীরা রাতের আঁধারে সৈকতে টহল দিতেন, ডিমের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেন এবং মানুষের কর্মকাণ্ড বা আলোক দূষণ থেকে কচ্ছপদের বাঁচাতে সচেতনতা বাড়াতেন। ফাদিয়া জুম্মা নামক এক সাংবাদিক ও পরিবেশকর্মীর ভাষ্যমতে, যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যেও মোনা খলিল আল-মানসুরি ছেড়ে যেতে চাননি। গত বছর যুদ্ধের সময় লেবানিজ সেনাবাহিনীর অনুরোধে অনিচ্ছাসত্ত্বেও তিনি বৈরুতে আশ্রয় নেন, কিন্তু তার মন পড়ে ছিল সেই সমুদ্র সৈকতে।

মোনা খলিলের একান্ত ইচ্ছা ছিল তার মৃত্যুর পর যেন তাকে আল-মানসুরি সৈকতের অদূরেই সমাহিত করা হয়। তবে বর্তমান যুদ্ধাবস্থা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তার শেষ ইচ্ছা পূরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সহকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের স্মৃতিতে মোনা খলিল বেঁচে থাকবেন একজন নিবেদিতপ্রাণ প্রাণিপ্রেমী ও আপসহীন পরিবেশবাদী হিসেবে, যিনি তার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত লেবাননের উপকূলে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় একাই লড়ে গেছেন।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

০%
০%
০%
০%