প্রতিবেশী দেশ ইরানে চলমান সংঘাতের প্রভাব ক্রমেই গভীর হচ্ছে ইরাকে। প্রতিদিনই মার্কিন ঘাঁটি ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে শুধু সামরিক উত্তেজনাই নয়, এর অর্থনৈতিক প্রভাবই এখন সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরাকের অর্থনীতি মূলত তেল রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু হরমুজ প্রণালীতে তেল পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় দেশের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলছে।
একই সঙ্গে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের বিস্তৃত প্রেক্ষাপটও ইরাককে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। যদিও ইরাক সরাসরি এই যুদ্ধে জড়িত নয়, তবুও সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব দেশটিকে মারাত্মকভাবে আঘাত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে ইরাক জানে, আঞ্চলিক সংঘাত দীর্ঘ হলে তার ধাক্কা এড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে।
বর্তমানে ইরাক সরকারও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। দেশের জাতীয় বাজেটের বড় অংশই তেল আয়ের ওপর নির্ভরশীল, আর সেই আয়ে ধস নামায় সরকারকে এখন আর্থিক রিজার্ভের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে ওয়াশিংটন, তেহরান এবং ইরান-সমর্থিত শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক সামলাতে হচ্ছে—যা রাজনৈতিকভাবে একটি জটিল ভারসাম্য তৈরি করেছে।
এই পরিস্থিতিতে ইরাক যেন একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের সামনের সারিতে পরিণত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও বাড়ছে উদ্বেগ। একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী বলেন, “তারা আমাদের বলছে, তেল রপ্তানি না হলে বেতন দেবো কীভাবে?”
এদিকে পাল্টাপাল্টি হামলা চলতে থাকায় স্থিতিশীলতা ফিরবে কি না, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। অনেকের আশঙ্কা, সীমান্তের ওপারের এই যুদ্ধ যতদিন চলবে, ততদিন ইরাকেও অস্থিরতা অব্যাহত থাকবে।