চীনের জাতীয় গণকংগ্রেস কর্তৃক প্রণীত ‘জাতিগত ঐক্য ও উন্নয়ন আইন’ বুধবার থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে বেইজিং এই আইনকে জাতিগত সম্প্রীতি রক্ষার দোহাই দিয়ে বলবৎ করলেও, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও সমালোচকদের দাবি, এর মাধ্যমে চীন তার সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতেও দমন-পীড়ন চালানোর আইনি বৈধতা অর্জন করল। বিশেষ করে আইনটির ৬৩ নম্বর ধারা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
জাতিসংঘের সংখ্যালঘু অধিকার ও সাংস্কৃতিক অধিকার বিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ারদের ভাষ্যমতে, এই আইন তিব্বত ও জিনজিয়াংয়ের মতো অঞ্চলে জোরপূর্বক আত্মীকরণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। আইনটির ৬৩ নম্বর ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন যদি জাতিগত ঐক্য ও প্রগতিকে বাধাগ্রস্ত বা বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের উপ-আঞ্চলিক পরিচালক সারাহ ব্রুকসের মতে, এই ধারাটি বিদেশে বসবাসরত চীনবিরোধী অ্যাক্টিভিস্টদের ওপর নজরদারি ও নিগ্রহের পথ প্রশস্ত করবে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের অভিযোগ, এখানে ‘ঐক্য’ বলতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি বোঝানো হয়নি, বরং এটি বেইজিংয়ের রাজনৈতিক আদর্শের সাথে শতভাগ আনুগত্যের প্রতিফলন। বেইজিংয়ের স্টেট কাউন্সিল ইনফরমেশন অফিসের মুখপাত্র ঝোউ জিয়ানশে এই সমালোচনার জবাবে দাবি করেছেন, এটি একটি বৈধ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। তার মতে, পশ্চিমা গণমাধ্যম এই আইনকে বিকৃত করে ‘লং-আর্ম জুরিসডিকশন’ বা অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলার চেষ্টা করছে।
এই নতুন আইনের প্রভাব নিয়ে তাইওয়ানেও ব্যাপক সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই চিং-তে তার দেশের নাগরিকদের চীন ভ্রমণ বা সেখানে অবস্থানের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, তাইপে এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং বিদেশে কর্মরত কর্মকর্তাদের যথাযথ নির্দেশনা প্রদান করবে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সাল থেকে বেইজিং ও তাইপের মধ্যে সরকারি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে চীন যখন ‘কট্টর’ তাইওয়ানিজ স্বাধীনতা কর্মীদের অনুপস্থিতিতে বিচার ও মৃত্যুদণ্ড প্রদানের ঘোষণা দেয়, তখন থেকেই তাইওয়ান তাদের ভ্রমণ সতর্কতা বাড়িয়ে দিয়েছে। আইনটির প্রয়োগ এখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বেইজিংয়ের সাথে অন্যান্য দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।