লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলা এবং স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের অভিযোগে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যেই সুইজারল্যান্ডের বারগেনস্টকে উচ্চপর্যায়ের কারিগরি আলোচনা শুরু হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ কার্যকর করার চাপ দিতেই ইরান এই সংলাপে অংশ নিচ্ছে। লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।
সুইজারল্যান্ডের লেক লুসার্নের উপকণ্ঠে বিলাসবহুল হোটেল কমপ্লেক্সে আয়োজিত এই সংলাপে মধ্যস্থতা করছে পাকিস্তান ও কাতার। ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান অসীম মুনিরসহ কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান বিন জসিম আল থানিও এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় যুক্ত হয়েছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, তেহরান সমঝোতা স্মারকে উল্লিখিত মার্কিন প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন দেখতে চায়। সমঝোতার প্রথম শর্ত অনুযায়ী, লেবাননসহ সকল ফ্রন্টে সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে এবং লেবাননের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে। তবে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় লেবাননে এ পর্যন্ত ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ লক্ষাধিক মানুষ গৃহহীন হয়েছেন, যা চুক্তি বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটন যদি কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে কেবল কাগজের চুক্তিতে সন্তুষ্ট থাকবে না তেহরান। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন যে, আমেরিকানরা কেবল অর্থনীতির ভাষা বোঝে, তাই চুক্তি কার্যকর না হলে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এর আগে লেবাননে ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দেয় ইরান, যদিও মার্কিন সামরিক কমান্ড সেন্টকম দাবি করেছে যে, বাণিজ্যের জন্য এই জলপথ এখনো উন্মুক্ত রয়েছে।
এই কারিগরি আলোচনা চলবে ৬০ দিন ধরে, যেখানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান পারমাণবিক কর্মসূচি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো রস হ্যারিসনের মতে, ইসরায়েল এই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী পক্ষ না হওয়ায় তারা আলোচনার ক্ষেত্রে একটি 'স্পয়লার' বা বাধা হিসেবে কাজ করতে পারে। তাই ইরান চায় যুক্তরাষ্ট্র যেন ইসরায়েলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এই যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করে।