গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নিরবচ্ছিন্ন আগ্রাসনে গত ২৪ ঘণ্টায় কমপক্ষে ৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও অনেকে আহত হয়েছেন। একই সময়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরে অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি আল-আকসা মসজিদ ও ইব্রাহিমি মসজিদে মুসল্লিদের প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে দখলদার বাহিনী। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার তথ্যমতে, উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া এলাকার আল-সালাতিন অঞ্চলে ড্রোন হামলায় অন্তত ২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া খান ইউনিসে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়কেন্দ্রে বিমান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হলে আরও একজন নিহত হন এবং অনেকে গুরুতর আহত অবস্থায় নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি জানিয়েছে, তারা ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫০০ জনের বেশি বন্দিকে স্থানান্তর ও তাদের পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের সহায়তা করেছে। তবে সংস্থাটির পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, গত বছরের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি বন্দিশালায় থাকা ফিলিস্তিনিদের কাছে তাদের কোনো প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি। রেড ক্রস কর্তৃপক্ষের দাবি, আটককৃত ফিলিস্তিনিদের বর্তমান অবস্থা ও অবস্থান সম্পর্কে ইসরায়েলকে অবিলম্বে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে হবে এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ঘোষিত নিরাপদ এলাকাগুলোতেও ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে গাজা সিটি ও আল-মাওয়াসি অঞ্চলের অস্থায়ী তাবু লক্ষ্য করে তীব্র আক্রমণ চালানো হচ্ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই চলমান হামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৭৩ হাজার ৫৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৩ হাজার ৪৮০ জন আহত হয়েছেন।
অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি পুলিশের কড়া পাহারায় ১১০ জন বসতি স্থাপনকারী আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। ইসলামিক ওয়াকফ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এসময় ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের প্রবেশপথে বাধা দেওয়া হয় এবং অনেকের পরিচয়পত্র কেড়ে নেওয়া হয়। একই সময়ে হেবরনের ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদে টানা অষ্টম দিনের মতো আজান দিতে বাধা দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। মসজিদের পরিচালক মুনজিদ আল-জাবারি জানান, এই বিধিনিষেধের মূল উদ্দেশ্য হলো মসজিদ থেকে মুসল্লিদের শূন্য করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সুদৃঢ় করা।
এদিকে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়ন অব্যাহত রেখেছে দখলদার বাহিনী। কালান্দিয়া ক্যাম্পে এক তরুণকে গুলিবিদ্ধ করার পাশাপাশি নাবলুস ও বেথেলহেম থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। বিশেষ করে সাংবাদিক আনাস আল-হাওয়ারিসহ বেশ কয়েকজন পেশাজীবীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ফিলিস্তিনি এনজিও নেটওয়ার্ক। সেইসঙ্গে ডামন কারাগারে বন্দি নারী ও চিকিৎসকদের মানবেতর জীবনযাপন ও মৌলিক অধিকার হরণের বিষয়টি নিয়েও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা।