রেকর্ড ভাঙা দাবদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসটি ইংল্যান্ডের ইতিহাসের উষ্ণতম মাস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং সমগ্র যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে এটি ছিল দ্বিতীয় উষ্ণতম জুন। ১৮৮৪ সাল থেকে তাপমাত্রা পরিমাপের নথি রাখা শুরুর পর এমন নজিরবিহীন গরমের মুখোমুখি আগে কখনোই হয়নি দেশটি।
জুনের শেষ সপ্তাহে দেশজুড়ে এক ভয়াবহ দাবদাহ বয়ে যায়। ইংল্যান্ডে গড় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৭.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা বিগত সময়ের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। জুনের ২১ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত টানা সাতদিন যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এর মধ্যে ২৬ জুন নরফোকের লিংউড এলাকায় তাপমাত্রা ৩৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা জুনের ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
তীব্র এই গরম কেবল দিনের বেলাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং রাতের বেলাতেও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কার্ডিফের বিউটে পার্কে ২৫ জুন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামেনি, যা রাতের তাপমাত্রার ক্ষেত্রে একটি নতুন রেকর্ড। অস্বাভাবিক এই উষ্ণতার কারণে এক হাজারের বেশি স্কুল ও নার্সারি বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং প্রচণ্ড গরমে বৈদ্যুতিক লাইন ও সিগন্যাল ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জনপরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে।
যুক্তরাজ্যের এই চরম পরিস্থিতির পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশটির অবকাঠামো গ্রীষ্মকালীন তীব্র তাপপ্রবাহ মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত নয় বলে সমালোচকদের অভিমত। ব্রিটিশ বাসগৃহে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিরল হওয়ায় এ ধরণের পরিস্থিতির মোকাবিলায় সরকারের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা।
শুধু যুক্তরাজ্য নয়, ফ্রান্স, জার্মানি, স্লোভাকিয়া, সার্বিয়া, ক্রোয়েশিয়া, ইতালি, অস্ট্রিয়া এবং পশ্চিম ইউক্রেনসহ ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এই দাবদাহের কবলে পড়েছে। এর মধ্যে কেবল ফ্রান্সেই তীব্র গরমে এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আনাই এই চরম বৈরী আবহাওয়া পরিবর্তনের একমাত্র সমাধান।