রেকর্ড তাপদাহ ও তীব্র খরায় বিপর্যস্ত পশ্চিম ইউরোপ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস জানিয়েছে, চলতি গ্রীষ্মে পশ্চিম ইউরোপ ভয়াবহ দাবদাহ ও নজিরবিহীন খরায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জুন ও জুলাই মাসে অঞ্চলটির গড় তাপমাত্রা ২১.৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এই তাপমাত্রা গড়ের তুলনায় ২.৭৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি, যা জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র প্রভাবকেই নির্দেশ করছে।
কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, মাটি থেকে আর্দ্রতা দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ায় প্রাকৃতিকভাবে শীতল হওয়ার সক্ষমতা হারিয়েছে ভূমি, যা তাপমাত্রাকে আরও অসহনীয় করে তুলেছে। ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর মিডিয়াম-রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টসের জলবায়ু বিষয়ক কৌশলগত প্রধান সামান্থা বার্জেস জানিয়েছেন, উচ্চচাপ বলয়ের কারণে সৃষ্ট এই দীর্ঘস্থায়ী দাবদাহ খরা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে। এই দুই পরিস্থিতির পারস্পরিক প্রভাবে ইউরোপের পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
প্রবল খরায় সেন, রাইন ও দানিউবসহ ইউরোপের প্রধান নদীগুলোর পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে গেছে। পানির এই তীব্র সংকট কৃষি সেচব্যবস্থাকে ব্যাহত করার পাশাপাশি হাঙ্গেরি ও স্লোভেনিয়ার পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ক্ষমতাও কমিয়ে দিয়েছে। এছাড়া ফ্রান্স ও স্পেনে রেকর্ড করা দাবদাহ ও খরা দেশ দুটিতে ধ্বংসাত্মক অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটিয়েছে।
ফ্রান্সের জিরোন্দ অঞ্চলে ৪২ হাজার হেক্টরেরও বেশি বনভূমি দাবানলে ভস্মীভূত হয়েছে, যার ফলে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে হয়েছে। একইভাবে স্পেনের আভিলা প্রদেশে প্রায় ৪৪ হাজার হেক্টর এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানল দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বড় বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এসব দাবানল থেকে নির্গত ধোঁয়া বায়ুমণ্ডলের অনেক উচ্চস্তরে পৌঁছে হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে অন্য দেশগুলোর বায়ুর গুণমানকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
সামুদ্রিক পরিবেশেও জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পোলার অঞ্চল বাদে বিশ্বের সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা জুলাই মাসে ২০.৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা ২০২৩ সালের ২০.৮৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। পরিবেশবিদরা আশঙ্কা করছেন, খরা ও দাবদাহের এই ভয়াবহ চক্র বৈশ্বিক জলবায়ু ব্যবস্থার জন্য এক অশনিসংকেত।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
