দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলার তীব্রতায় অসহায় সাধারণ মানুষ সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন

দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি সামরিক হামলা ও বাস্তুচ্যুতির নির্দেশনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। বৈরুত ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার মধ্যেই বৃহস্পতিবার নতুন করে চালানো বিমান হামলায় অন্তত আটজন আহত হয়েছেন, যা জুন মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির ব্যর্থতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে।
মানসুরি শহরের বাসিন্দাদের ওপর আরোপিত সাম্প্রতিক উচ্ছেদের আদেশ এলাকাটিতে নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেশী মাজদাল জুন শহরের মেয়র ইউসেফ শেহেমি আল-জাজিরাকে জানান, মানসুরি ইসরায়েলি দখলদারিত্বের আওতাভুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও সেখানে নির্বিচারে হামলা চালানো হচ্ছে। তার মতে, ইসরায়েলের কোনো সীমারেখা নেই এবং তারা কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতির শর্তকেই তোয়াক্কা করছে না।
নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো বর্তমানে শহরের উপকণ্ঠে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এদিকে, ইসরায়েলি বাহিনী পরিকল্পিতভাবে দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলোতে বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দিচ্ছে এবং কৃষিজমি পুড়িয়ে ফেলছে, যাকে বিশ্লেষকরা জাতিগত নির্মূল অভিযানের একটি অংশ হিসেবে দেখছেন। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এই ধ্বংসযজ্ঞ রুখতে লেবাননের রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।
গত সপ্তাহে রোমে লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিরা একটি কাঠামোগত চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করেছেন, যার লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার। তবে হিজবুল্লাহ এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এবং তারা এই চুক্তির বিরোধিতা করছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পাইলট জোনে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা থাকলেও বাস্তবে এর কোনো প্রভাব এখনো দক্ষিণ লেবাননে পড়েনি।
সর্বশেষ এই উত্তজনা ছড়িয়ে পড়ে যখন একটি বিস্ফোরক হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়। যদিও হিজবুল্লাহ এ ঘটনার দায় স্বীকার করেনি, তবু ইসরায়েলি বাহিনী তার জবাবে মানসুরি ও বুরজ আল-শেমালির মতো এলাকায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করে। বুরজ আল-শেমালির এক বাসিন্দা আলমাযা হাজিম জানান, যুদ্ধবিরতি পরবর্তী শান্ত পরিস্থিতি ভেঙে আবারও ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে দিন কাটছে স্থানীয়দের।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
