AdvertisementAdvertisement

সিউটা সীমান্ত সংকট ও মরক্কোকে মার্কিন সহায়তা নিয়ে উত্তপ্ত মার্কিন রাজনীতি

উত্তর আফ্রিকার স্প্যানিশ ছিটমহল সেউতায় হাজার হাজার অভিবাসীর আকস্মিক অনুপ্রবেশের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার এক সপ্তাহ পার হতে না হতেই এই বিশৃঙ্খলার নেপথ্যে ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে জোর বিতর্ক চলছে। স্পেনের বামপন্থি প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সরকারের নমনীয় অভিবাসন নীতিকে দায়ী করে সমালোচকরা একে এক ধরনের ‘আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করছেন।

মার্কিন আইনপ্রণেতাদের একাংশ এই ঘটনার সঙ্গে মরক্কোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সমর্থনের একটি যোগসূত্র খুঁজে পাওয়ার দাবি তুলেছেন। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য টমাস ম্যাসি অভিযোগ করেছেন, সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের একটি প্রতিবেদনে সেউতা ও মেলিলা নিয়ে মরক্কোর দাবির প্রতি একপ্রকার মৌন সমর্থন দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিবেদনে মরক্কোকে ৪০ মিলিয়ন ডলারের নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে, যা নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরেও অসন্তোষ দানা বেঁধেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

প্রাক্তন কংগ্রেসম্যান মার্জোরি টেইলর গ্রিন বিষয়টি নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, মার্কিন করদাতাদের ৪০ মিলিয়ন ডলার ব্যবহার করে কার্যত মরক্কোকে স্পেনে অভিবাসী পাঠানোর পথ সুগম করে দেওয়া হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের স্বপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি, তবে মরক্কোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও কূটনৈতিক সখ্যতা পুরো বিষয়টিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিশ্লেষকদের মতে, স্পেনের বর্তমান সরকার গাজা ও ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের কঠোর সমালোচনা করায় দেশটির ওপর চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবেই সেউতার এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। কিছু অভিবাসী জানিয়েছেন যে, মরক্কোর সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের বাধা দেয়নি, বরং সীমান্ত অতিক্রম করতে উৎসাহিত করেছে। স্পেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, অভিবাসীদের ভিড়ে মরক্কোর গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে আব্রাহাম চুক্তির আওতায় মরক্কো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় সাহারা নিয়ে মরক্কোর বিতর্কিত দাবিকে ওয়াশিংটন স্বীকৃতি দেয়। বর্তমানে টমাস ম্যাসি ও মার্জোরি টেইলর গ্রিনের মতো নেতারা ট্রাম্পের বৈদেশিক নীতির কঠোর সমালোচক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। এই সংকটের পেছনে ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণের তত্ত্বটি কেবল অনুমাননির্ভর হলেও, সেউতার ঘটনাকে ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনার আঁচ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলার আশঙ্কা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%