নভেম্বরে লাতিন আমেরিকা সফরে যাচ্ছেন পোপ লিও চতুর্দশ

ক্যাথলিক চার্চের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো লাতিন আমেরিকা সফরে যাচ্ছেন পোপ লিও চতুর্দশ। ভ্যাটিকানের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৬ নভেম্বর থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত তিনি উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা এবং পেরু সফর করবেন। দীর্ঘ তিন দশক ধর্মপ্রচারক ও বিশপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা পেরুর মাটি পোপের জন্য অত্যন্ত আবেগঘন ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
ভ্যাটিকানের তথ্যমতে, সফরের প্রথম ধাপে ৬ থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত উরুগুয়ের মন্টেভিডিও, পাইসান্দু এবং ফ্লোরিডা শহরে অবস্থান করবেন পোপ। এরপর ৮ থেকে ১১ নভেম্বর তিনি আর্জেন্টিনা সফর করবেন, যার মধ্যে বুয়েনস এইরেস, কর্ডোবা এবং লুহান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সফরের শেষভাগে ১১ থেকে ১৭ নভেম্বর তিনি পেরুর লিমা, চিকলাও, কুসকো ও পুকালপা ভ্রমণ করবেন। পোপের এই সফরের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ভ্রমণের তারিখ এগিয়ে এলে প্রকাশ করা হবে।
পেরুর চিকলাওয়ের সঙ্গে পোপ লিও চতুর্দশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ১৯৮৫ সালে ৩০ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো পেরুতে পা রাখা এই ধর্মযাজক পরবর্তী তিন দশক যুক্তরাষ্ট্র ও পেরুর মধ্যে যাতায়াত করেছেন। ২০১৪ সালে পোপ ফ্রান্সিস তাকে চিকলাওয়ের ডায়োসিসের দায়িত্বে নিয়োগ দেন এবং পরের বছর তিনি পেরুর নাগরিকত্ব লাভ করেন। ২০২৫ সালে পোপ নির্বাচিত হওয়ার পর চিকলাওয়ের মানুষ তাকে তাদের ‘নিজের পোপ’ হিসেবে বরণ করে নেয়, যা বিশ্বজুড়ে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
আর্জেন্টিনা সফরটিও অত্যন্ত প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে, কারণ প্রায় ৪০ বছর পর কোনো পোপ দেশটিতে পা রাখছেন। এর আগে ১৯৮৭ সালে পোপ জন পল দ্বিতীয় সেখানে সফর করেছিলেন। পোপ ফ্রান্সিস আর্জেন্টিনার নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তার ১২ বছরের পোপ আমলে নিজ দেশে ফিরে যাননি। ফলে লাতিন আমেরিকার বিশাল ক্যাথলিক জনগোষ্ঠীর কাছে পোপ লিওর এই সফর নিয়ে ব্যাপক উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট ক্যাথলিক খ্রিস্টানের ৩৯ শতাংশই লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে বসবাস করেন। বিশ্বজুড়ে নিজের সম্পৃক্ততা বাড়াতে পোপ লিও সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক সফর বাড়িয়ে দিয়েছেন। দক্ষিণ আমেরিকা যাত্রার আগে আগামী ২৫ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর তার ফ্রান্স সফরের সূচিও নির্ধারিত রয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
